সেন্ট মার্টিনে ট্রলার ডুবে ১৫ রোহিঙ্গা নিহত

0

স্টাফ রিপোর্টার: কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে মঙ্গলবার সকালে যাত্রীবাহী একটি ট্রলার ডুবে গেছে। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিয়ে ট্রলারটি মালয়েশিয়ার দিকে যাচ্ছিলো। এ ঘটনায় ১৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৭৩ জনকে। এখনো ৫২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন রোহিঙ্গা নারী। বাকি তিনটি লাশ শিশুর। যে ৭৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ, ৪৬ জন নারী ও তিনটি শিশু।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের সাত থেকে আট কিলোমিটার দূরে এ ঘটনা ঘটে। মালয়েশিয়াগামী ট্রলারের যাত্রীরা কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা।
কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের একটি বড় দল অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার আশায় সোমবার গভীর রাতে টেকনাফের নোয়াখালীয়াপাড়া থেকে মাছ ধরার দুটি ট্রলারে চেপে রওনা হয়। এর মধ্যে একটি ট্রলার ভোর পৌনে ৬টার দিকে সাগরে দুর্ঘটনায় পড়ে ডুবতে শুরু করলে জেলারা তা দেখে কোস্টগার্ডকে খবর দেয়। তিনটি স্টেশন থেকে কোস্টগার্ড সদস্যরা গিয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তাদের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয় নৌবাহিনীর জাহাজ দুর্জয়। কোস্টগার্ড কর্মকর্তা নাঈম উল হক বলেন, আরও ৫২ জনের নিখোঁজ থাকার তথ্য আমরা পেয়েছি। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন জানান, জীবিতদের উদ্ধার করে নিয়ে আসার জন্য বিমানবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছিলো। তাদের দুটি হেলিকপ্টার এ কাজে সহযোগিতা করেছে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সহায়তায় দুর্ঘটনায় পড়া ট্রলারটি টেনে সেন্টমার্টিনে নিয়ে আসা হয়েছে। মূলত ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় সেটি দুর্ঘটনায় পড়ে বলে কোস্টগার্ডের ধারণা।
নাঈম উল হক বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে রওনা হওয়া অন্য ট্রলারটির কোনো খোঁজ তারা পাননি। সেটি ইতোমধ্যে মিয়ানমারের জলসীমায় চলে গেলে বলে তারা মনে করছেন। জীবিত উদ্ধার হওয়া ৪৬ জন নারী ও ২৫ জন পুরুষকে সেন্টমার্টিনের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাচারকারীদের দালালও রয়েছেন বলে ধারণা দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রথমে একটি পাহাড়ে কয়েকদিন রাখা হয়েছিলো। পরে সোমবার গভীর রাতে তাদের ট্রলারে তোলা হয়।

Loading Facebook Comments ...

প্রত্যুত্তর দিন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন