আলমডাঙ্গার যুগিরহুদার হত্যাকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান

0
27

 

বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি : এরপরই হেলালকে কোপায় মানিক

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: আলমডাঙ্গার যুুগিরহুদার হেলালকে মানিক একাই কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মারার আগে প্রথমে ঝগড়া হয়। বাকবিত-ার এক পর্যায়ে যখন হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয় তখন হেলাল পড়ে গিয়ে তার অ-কোষ চেপে ধরে। মানিক ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মুক্ত হয়ে সরে পড়ে।

মানিক তার জবানবন্দিতে বলেছে, মেয়েলি ঘটনায় হেলালের সাথে মানিকের বিরোধ ছিলো। বারবার সতর্ক করেও হেলাল কুপথ থেকে ফিরে আসেনি বরং আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো। মানিকের কোনো অনুতাপ নেই হেলালকে হত্যা করে। বিজ্ঞ বিচারকের সামনে হেলাল হত্যাকা-ে নিজেকে জড়িয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকালে এমন তথ্য প্রদান করেছে বলে পুলিশসূত্রে জানা গেছে। ৪দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল ২৬ এপ্রিল তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞ বিচারকের সামনে হাজির করা হলে হেলাল হত্যাকা-ে নিজেকে জড়িয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকালে মানিক অকপটে সবকিছু স্বীকার করে। মানিক জানায়, তাদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা ছিলো। হত্যাকা-ের দিন সকালে হেলাল ধানক্ষেতে সেচ দিতে যায়। মানিক যায় ওই ধানক্ষেতের নিকটবর্তী ভুট্টাক্ষেতে কাজ করতে। সে সময় মানিককে দেখে হেলাল নিজের কাছে ডেকে নেন। উত্তেজিত হয়ে মানিকের নিকট জানতে চায় সে কেন হেলালকে গালিগালাজ করেছে। এক পর্যায়ে তাদের দু’জনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। শক্তিতে কুলিয়ে উঠতে না পেরে হেলাল পড়ে যায়। সেই অবস্থায় মানিকের সজোরে অ-কোষ চেপে ধরে থাকে হেলাল। কোনোভাবেই হেলালের হাত থেকে নিজের অ-কোষ মুক্ত করতে পারে না মানিক। মানিকের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে অ-কোষ মুক্ত করতে সে হেলালের হাত থেকে ছিটকে পড়া ধারালো হেঁসো তুলে নেয়। উপর্যুপরি কোপাতে থাকে হেলালের পায়ে। এক পর্যায়ে অ-কোষ চেপে ধরা হেলালে হাত আলগা হয়ে আসে। দুর্ভাগ্য যে কেউ মর্মান্তিক এ ঘটনাটি জানতে পারেনি। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হেলালের মৃত্যু ঘটে। মানিক আরও জানিয়েছে, হেলালকে হত্যা করার কোনো ইচ্ছে তার ছিলো না। সে চেয়েছিলো হেলালকে পঙ্গু করে দিতে। তবে হেলালের মৃত্যুতে তার কোনো অনুতাপ নেই বলেও উল্লেখ করেছে। মানিক একাই এ হত্যাকা- ঘটায় বলেও উল্লেখ করে।

উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল শনিবার দিনদুপুরে ধানক্ষেতে সেচ দেয়ার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে খুন করা হয় আলমডাঙ্গা উপজেলার যুগিরহুদা গ্রামের মৃত একদিল বিশ্বাসের ছেলে হেলালকে। হত্যাকা-ের দিন সকালে গ্রাম থেকে আধা কিলোমিটার দূরে নিজের ধানের ক্ষেতে সেচ দিতে যান হেলাল। সে সময় তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হেলালকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডা. শামীম কবির তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একই গ্রামের হাসিবুল ইসলামের ছেলে মানিককে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যামামলা দায়ের করা হয়। এ হত্যাকা-ের পর থেকে মানিক পলাতক ছিলো। গত ১৫ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করে সে। হত্যামামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলমডাঙ্গা থানার এসআই জিয়ার আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৭ এপ্রিল বিজ্ঞ আদালত তাকে ৪দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২৩ এপ্রিল পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে নেন। রিমান্ড শেষে গতকাল তাকে আদালতে হাজির করা হলে সে উপরোক্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। ইতঃপূর্বে গত ২৫ এপ্রিল স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ মানিককে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। সে সময় মানিক নিজ হাতে হত্যাকা-স্থলের নিকটবর্তী একটি পানবরোজের ভেতর থেকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত লুকিয়ে রাখা ধারালো হেঁসোটি বের করে দেয়।