পারিবারিক দারিদ্র্যের বোঝা শিশুর ঘাড়ে চাপানো অন্যায়

0

 

“পড়তে গেলে পেটের ভাত জুটবে না, পড়ার বদলে দোকানে গিয়ে চা টানো। কথা না শুনলে পিটুনি খাও।” যে দেশে সকল শিশুর শিক্ষা বাধ্যতামূলক, সেই দেশেরই কোনো এক পিতা যখন এ ধরনের উক্তি আওড়ায়, শিশু সন্তানকে পিটিয়ে আহত করে তখন বুঝতে বাকি থাকে না সমাজের বাস্তবতা এখনও কোন তিমিরে। তবে পিটুনির দৃশ্য দেখে প্রতিবেশীরা যখন নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকেননি তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে, সমাজের সকলে অসচেনতার অন্ধকারে নেই। কেউ কেউ অসচেতন বলেই তাদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে নিজের মতোই গ- মুর্খ করে সন্তানের জীবনটাকেও গ-িবদ্ধ করে রাখতে চায়। এ থেকে পরিত্রাণ প্রয়োজন।

গতকাল দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের বুজরুকগড়গড়ি বনানীপাড়ার এক পিতা তার শিশু সন্তানকে মারতে দেখে প্রতিবেশীরা এগিয়ে যান। শিশু সন্তান নির্যাতকের সাথে প্রতিবেশীদের হালকা বাগবিত-াও হয়। বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ালে সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তাৎক্ষণিক খতিয়ে দেখেন। সন্তানকে বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে তাকে তার চায়ের দোকানে কাজ করতে বাধ্য করার বিষয়টি জানার পর নির্যাতক পিতাকে থানায় নিয়ে প্রথমবারের মতো সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “আবারও যদি শিশু সন্তানের গায়ে হাত দেয়া হয়, বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে যদি চা দোকানেই রাখা হয় তা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।” পুলিশ অফিসারের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।

নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না যে, কিছুদিন আগে এই চুয়াডাঙ্গারই মুসলিমপাড়ার এক শিশুর দুষ্টুমি রুখতে তার পিতা ওয়েল্ডিঙের দোকানে নিয়ে পায়ে শেকল পরিয়েছিলেন। শেকল পরানোর সময় পায়ের একাংশ ঝলসে গেলে শিশুর চিৎকারে বিষয়টি জানাজানি হয়। পত্রিকার পাতায় বিষয়টি উঠে আসে। পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়। ওই পিতাকেও থানায় নিয়ে পুলিশ শিশুর অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে গিয়ে বলে, কোন সন্তানকেই তার পিতা মাতার নির্যাতন করার অধিকার নেই। নির্যাতন করা আইনত দ-নীয় অপরাধ। তাছাড়া শিশুর কৌতুহলি মনকে দুষ্ঠুমি হিসেবে দেখার বদলে তার মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টিকরা সকল অভিভাবকের দায়িত্বেরই অংশ। পুলিশের এ পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে ওই শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। লেখাপড়ায় মননিবেশও করেছে সে।

একটা সময় ছিলো যখন সন্তানকে লেখাপড়া করাতে গেলে পাঠ্যপুস্তুকসহ অনেক কিছুই কিনতে হতো। সরকারের বিশেষ উদ্যোগে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাঠ্যপুস্তকই শুধু বিনামূল্যে সরবরাহ করছে না, আগামীতে আরও কিছু দেয়ারও কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তাছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরুত্বও হাতের নাগালে। কিছু বিদ্যালয়ে দুপুরে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এরপরও শিশু সন্তানকে বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে দোকানে নিয়ে চা টানানোর কাজ করানো কি সন্তানের প্রতি কর্তব্যহীনতা নয়? পারিবারিক দারিদ্র্যতা অস্বীকার করা না গেলেও শিশু সন্তানের ঘাড়ে তার বোঝা চাপানো শুধু মুর্খতাই নয়, চরম অন্যায়। জাতির স্বার্থেই এ অন্যায় রুখতে হবে।

Loading Facebook Comments ...

প্রত্যুত্তর দিন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন