চুয়াডাঙ্গায় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে শামসুজ্জামান দুদু

গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই

স্টাফ রিপোর্টার: এবারের ঈদের প্রেক্ষাপটটাই ভিন্ন। দীর্ঘ ১৬/১৭ বছরের যে স্বৈরতান্ত্রিক একটি সরকার জগদ্দল পাথরের মতো জাতির কাঁধে চেপে ছিলো; সেদিক থেকে চুয়াডাঙ্গা বিচ্ছিন্ন না। এই অঞ্চলেও নির্মম নির্যাতন হয়েছে। হামলা-মামলার মুখোমুখি হয়েছে মানুষ। সে প্রেক্ষাপটে এবারের ঈদ একেবারেই ভিন্নধর্মী। একেবারে শ্বাসরূদ্ধকর, কষ্টকর ব্যবস্থার বাইরে এবারকার ঈদ। মানুষ অন্ততপক্ষে নির্যাতনের বাইরে গিয়ে ঈদ উদযাপন করেছে। গত মঙ্গলবার সকালে শহরের নিজবাড়িতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে শামসুজ্জামান দুদু এসব কথা বলেছেন।
শেখ হাসিনার আমলে বাজারে যে সিন্ডিকেট ছিল তার থেকেও কিছুটা-আমার মনে হয়েছে বাজার ব্যবস্থাপনা কিছুটা হলেও স্বস্তির মধ্যে ছিলো। আলহামদুলিল্লাহ আমার মতো অন্যরাও স্বস্তির মধ্যে ঈদ উদযাপন করেছে। এই মুহূর্তে বিএনপির মূল কাজ হচ্ছে গণতন্ত্রায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। স্বস্তির দিকে ফিরিয়ে আনা। নিরাপত্তার সাথে বসবাসের যে পরিস্থিতি সেটাকে প্রতিষ্ঠা করা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে যাতে দুবেলা দুটো খেতে পায়। বেকার ছেলেটি যেন চাকরি পায়। নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা। সর্বোপরি গণতান্ত্রিক একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। যে নির্বাচনে গত ১৫ বছর কেউ ভোট দিতে পারেনি। যার বয়স এখন ৩০ সে ১৫ বছর বয়স যখন ছিল সে ভোট দিতে পারেনি। সেই ভোটের ব্যবস্থার দিকে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
অন্তর্র্বতকালীন সরকার সাংবিধানিক সরকার। সংবিধানে স্পষ্ট করে লেখা আছে একটি সরকার বিদায়ের ৯০দিনের মধ্যে আরেকটি নির্বাচিত সরকারের ব্যবস্থা করতে হবে। যেটি আমরা ৯০এর গণঅভ্যুত্থানের পরে তিন মাসের মধ্যে অর্থাৎ ৯০দিনের মধ্যে জাস্টিস শাহাবুদ্দিন আহমেদ ব্যবস্থা করেছিলেন। এখন দুটো ৯০দিন অলরেডি আমরা পার করে ফেলেছি। এদিকে সরকারের সজাগ হওয়া উচিত। সরকারের আরো বেশি সজাগ হতে হবে যে, মানুষ যেনো আগের মতো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে না থাকে। কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ-এদের দিকে তাদের নজর দিতে হবে। যেমন শ্রমিকরা এবার ঈদের ব্যবস্থাপনায় একটি বড় সেকশনে বেতন-ভাতা দেয়া হয়নি। তারা খুব অবহেলিত বলে আমার মনে হয়েছে। সরকার সজাগ হতে পারতো, সতর্ক হতে পারতো। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাগুলো মানুষের জীবন ছুঁয়ে দেয়। এ ব্যাপারে সরকার যদি সজাগ হতো, সতর্ক হতো তাহলে আরো ভালো থাকতে পারতো। এখানে কিছুটা ঘাটতি আছে। তবে, এই ঘাটতির জন্য এই সরকারকে দোষারোপ করছি না-এই কারণে যে, এই সরকার রাজনৈতিক সরকার না। বিভিন্ন পেশার থেকে তারা এখানে এসেছে। মানুষের অনুভূতি , মানুষের জানা-বোঝা এই জিনিসগুলো তাদের নাও জানা থাকতে পারে। সেজন্য যতটুকু তারা করতে পেরেছে আলহামদুলিল্লাহ।
অন্তবর্তীকালীন সরকার আসলে বিশ্বব্যাপী ভূমিকা রাখে। ১৮ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। আমরা এমন একজনকে পেয়েছি সরকার প্রধান হিসেবে পেয়েছি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দেশে এবং সারাবিশ্বে একটি সেলিব্রেটি হিসেবে চিহ্নিত। নোবেল প্রাইজ, সামাজিক ব্যবসা অর্থাৎ বিশ্ব তাকে চেনে। তো স্বাভাবিক কারণে এই বাড়তি চাওয়াটা সরকারের কাছ থেকে জনগণ দেশবাসী পেয়েছেন। সেটাকে ব্যবহার করা। যেমন আমাদের হাজার হাজার, লক্ষ হাজার কোটি টাকা এদেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। মানুষ প্রত্যাশা করছে ড. ইউনূসের সঙ্গে অন্যান্য দেশের যে যোগাযোগ, সেই যোগাযোগের ভিত্তিতে এই লুটের টাকা ফেরত আসুক। এখনও পর্যন্ত টাকা ফেরত আসেনি। তারপরও মানুষ আসা করে টাকা ফেরত আসবে। ওই একই কারণে। আর, বিশ্ব ব্যবস্থায কূটনৈতিক রাজনীতি যেটা-এটাতে যদি সফল হই..। ভারত এখনো পর্যন্ত যে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে কুটনীতিক সুলভ রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পারে এটা ঠেকাতে। আমার মনে হয় ভারত আস্তে আস্তে বুঝতে পারছে যে-পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে কী ব্যবস্থাপনায় যেতে হবে। এটি যখন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আমাদের ভূমিকা অবস্থান আরও ভালো হবে।
চীন সবসময়ই-আগাগোড়া জিয়াউর রহমানের সময়ে যে স্বীকৃতি বাংলাদেশের সে স্বীকৃতির প্রেক্ষিতে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকছে বলে আমি মনে করি। চীন আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। গত সময়গুলোতে হাসিনা সরকার তাকে ভিন্নভাবে ব্যবস্থাপনা-ব্যবহার করেছে। তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের পাশে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু, শেষ বিচারে হাসিনা সরকার ভারতকে পাশে রাখতে চেয়েছিলেন। যে কারণে চীন একটু সরে গিয়েছিল। শেখ হাসিনার চীন সফরের সময় আমরা লক্ষ্য করেছি। তিনদিনের সফর দেড় দিনে প্রত্যাখাত হয়েছিল। সফর শেষ না করে দেশে চলে আসতে হয়েছিল। তার যে অর্থনীতি বরাদ্দ ছিল, সেটা দুঃখজনক। সেসব প্রেক্ষিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফর অনেক আশাব্যঞ্জক। তবে, প্রত্যাশিত বিষয়টি এখনো, তার সময়ে যেটা প্রত্যাশা করেছি সেটা এখনও পায়নি। সেটা আমার ধারণা রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর আরও বেশি এগিয়ে যাবে। ছাত্রদের সংগঠন হওয়া উচিত ছিল ছাত্রসংগঠন। ছাত্ররা-শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক দল গঠন করে তখন শিক্ষা ব্যবস্থায সংকট দেখা দেবে। জাতির উন্নয়ন বা মেরুদ- শিক্ষা। সেই শিক্ষা ফেলে থুয়ে যদি রাজনৈতিক দল গঠন করে তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থায় টান পড়বে। যে কেউ রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে। তারা দল গঠন করেছে; এতে আশ্বর্য হওয়ার কিছু না। কিন্তু সাংবিধানিকভবে তারা যেসব বক্তব্য নিয়ে আসছে সেটা তারা বলতে পারে নির্বাচনের পরে এটা কার্যকর করতে পারে। তারা বললে সেটাই হবে, এই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, সেনাবাহিনী সম্বন্ধে তাদের যে মন্তব্য ওইটা দুর্ভাগ্যজনক। এটা ভয়াবহ, এটা করা উচিত হয়নি। এর কারণ হচ্ছে অনভিজ্ঞতা-আমার বিবেচনায় মনে হয়েছে। তো ছাত্র রাজনীতি শেষ করে। আমরাও একসময় ছাত্র রাজনীতি করেছি। যারা রাজনৈতিক দলে যায়নি তারা কুশিক্ষিত থাকে। এরা তোাছাত্র অবস্থাতেই রাজনৈতিকদল গঠন করেছে। সেজন্য তাদের ত্রুটি খুব বেশি বেশি হচ্ছে। মনে হয় রাজনীতিতে থাকলে ভালো হয়। যেমন তাদের সভাপতি নাহিদ ইসলাম, আমরা যখন হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিলাম, ১৭ বছর ধরে আন্দোলন করেছি। ওই আন্দোলনের কথা ড. ইউনূস মনে নেয় না, ওরাও মনে নেয় না। না নেয়ার পেছনে একটি কারণ মনে হয়েছে, ওদের সভাপতির বয়স ২৬ বছর। তাহলে আমরা যখন আন্দোলন শুরু করেছি তার বয়স তখন ৯। ইতিহাস জানতে হলেও একটা সময় লাগে। সেটা সে জানে না। হয়ত আগামীতে এটা পূরণ হয়ে যাবে। তো কেউ কেউ বলছে না-১৬ বছরে ভোটার করতে হবে। আমার মনে হয় আরেকটু চিন্তা করে বলা উচিত ছিল। আমাদের আন্দোলনের সময় একশ’র অধিক শিশু মারা গেছে। তাহলে তারাও আন্দোলনে ছিল। শিশুর কথা বিবেচনা করলে তাহলে ভোটারের বয়স ৮ হতে হয়। তাহলে প্রার্থীর বয়স ১২ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর বয়স তাহলে ১৩ বছর হয়। এগুলো একটু ভেবে বলা উচিত। প্রাপ্ত বয়স্ক বলতে বোঝায় ১৮। ১৮ বছরের নিচে বিয়ে বরলে বাল্যবিয়ে বলে। এগুলো রাষ্ট্রবিজ্ঞান, রাজনীতি, অভিজ্ঞতা মাথায় রাখলে ভালো হয়।
ড. ইউনূসকে প্রধানমন্ত্রী সারজিস আলমের মন্তব্য নিয়ে বলেন, সারজিসের আলম মন্তব্য নিয়ে অত ভাবনা-চিন্তা করার অবকাশ নেই। সে তার মতো করে, তার দৃষ্টিভঙ্গি, তার মেধা, তার নেতৃত্ব, তার চিন্তার প্রেক্ষিতে বলেছে। কিন্তু, জনগণ ভোটের মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিকে নির্বাচিত করবে, সেই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে যারা সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করবে। তারা-সেই দলের এমপিরা যাকে মনোনীত করবে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। এদেশে বাম সংগঠন আছে, ইসলামী সংগঠন আছে, মধ্যবর্তী সংগঠন আছে, অনেক পুরাতন সংগঠন দীর্ঘদিন থেকে তারা রাজনীতি করছে। শতবছরের সংগঠন অথচ ভোটের সময় তিনটির বেশি প্রার্থী জেতে না। আবার যদি আমাদের সঙ্গে আসে তাহলে ১৮-১৯টা হয়। তো তারা নির্ধারণ করতে পারবে না প্রধানমন্ত্রীকে হবে। আর ওরা তো ইলেকশনই করেনি। আগে ইলেকশন করুক তারপর দেখা যাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, নাকি অন্য কেউ সেটা বোঝা যাবে।
তারেক রহমানের ৩১ দফা: প্রথমে এটি ২০৩০ কর্মসূচি ছিল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম এটি উপস্থাপন করেন। সম্ভবত এটা ২০১৬/২০১৩ সালে। ২০৩০’র পরে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমান ২৭ দফা প্রস্তাবনা করে। এটিও আবার সকল আন্দোলনমুখী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে এটি ৩১ দফায় রূপান্তরিত হয়েছে।
৩১ দফায় উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, পরপর দুইবার কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না। গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থাপনায় যেসব কথা আছে সে জায়গায় সংস্কার যারা করতে চায় তারা এদিকে যদি একবার তাকায়, আলাদা করে আলোচনার কোনো কথা নেই। ৩১ দফার পর আমাদের তারেক রহমান সাহেব বলেছেন, আরও পরিবর্তনের কোনো প্রস্তাবনা বাস্তবমুখী হয় এটাও গ্রহণ করা হবে। সেই বিবেচনাতে এটি জাতীয় সনদ হিসেবে উল্লেখ করতে চাই।
সংবিধান সংস্কারের যে কথা বলা হচ্ছে, এটি পার্লামেন্টের। এছাড়া কোনো দ্বিতীয় মাধ্যম নেই। নির্বাচিত পার্লামেন্ট, নির্বাচিত সংখ্যক, সুনির্দিষ্ট-সংখ্যাগরিষ্ঠতার মতামতের প্রেক্ষিতে এটা করতে পারে। এর বাইরে যদি কোনো প্রস্তাবনা থাকে, সেটি একেবারেই প্রস্তাবনা। যদি পার্লামেন্ট অ্যাকসেপ্ট না করে তাহলে এটা গ্রহণযোগ্য হবে না। সংবিধানের অংশ হবে না। আবার, অনেক নতুন ভাবনা আসে (প্রস্তাবনার বাইরে) গ্রহণযোগ্য হয়, পার্লামেন্ট গ্রহণ করে তাহলে এটা গ্রহণ করা যেতে পারে। আর, এই সংবিধান দ্বিধাহীনভাবে বলা যায় ১৫ বছরে কাটাছেঁড়া করে খুবই নগ্ন-হতাশাজনক অবস্থায় রাখছে। কিন্তু সংবিধান বাতিল করা, কবরে নিয়ে যাওয়া, এটি সংবিধানের জন্য দুঃখজনক। পরিবর্তিত হতে পারে, সংযোজিত হতে পারে, পুনঃলিখনের কোনো সুযোগ নেই। সে জন্য আমার মনে হয়েছে ৩১ দফা সুলিখিত একটি গ্রহণযোগ্য দফা।
গণঅভ্যুত্থানের পরে আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে আমার ধারণা। তারা শুধু নামই আছে, তাদের নেত্রী, তাদের নেতা-কর্মী এখনও পর্যন্ত কোথায-কীভাবে আছে, এরা ভাসমান, না অদৃশ্য শক্তি এটা আমি জানি না। সে হিসেবে ওই শক্তিটার যে ভোটার, তারাও তাদের ভোটার আছে বলে মনে হয় না। এ কারণে রাজনীতিতে দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু, চোর-বাটপার-লুচ্চ-ধর্ষণকারী যদি একবার যেনে যায় কোনো ভোটার, আমার মনে হয় না সেই ভোটার সেই পক্ষে থাকবে। অর্থাৎ যদি ধরেও নিই আওয়ামী লীগের ২০ পার্সেন্ট ভোট ছিল, ১৮ শতাংশই নেই। অর্থাৎ ২ ভাগ তাদের ভোটার আছে কী না সন্দেহ। কারণ, এখন কেউ স্বীকার করে না। এখন গরুর দুধ মাথায় ঢেলে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেছে। এই দলের কৃতকর্ম যে পাপ তো থেকে সকলেই মুক্তি পেয়েছে। সে হিসেবে একক দল হিসেবে বিএনপি সামনে আসে। আরও ওই নির্বাচনগুলো যদি আমরা দেখি। জামায়াত যখন বিএনপির সঙ্গে ছিল, তখন ১৮/১৯টি সিট পেয়েছে। বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে ইলেকশন করেছে। তাও আবার তাদের মার্কা নিয়ে ইলেকশন করতে পারেনি। নিবন্ধন বাতিল ছিল। এখন যেভাবেই প্রচার-প্রচারণায় আসুক না কেন বিএনপির কোনো বিকল্প তেরি হয়েছে আমার কাছে তা মনে হয় না।
আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে বিএনপি: তার আগে একটা ফয়সালা আছে সরকার কীভাবে দেখছে। ড. ইউনূস বলছেন যে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এই ধরণের কথা বিএনপির ভেতর থেকে আসলে তো ভয়াবহ ঘটনা হতো। এই কথা ড. ইউনূস বলার পরও ড. ইউনূসকে নিয়ে কেউ কথা বলছে না। বিএনপি নিয়ে কথা বলছে। বিএনপির বিরোধী যারা তারা এমনটি বলছেন। বিএনপির অতীতে যে দেশপ্রেমিক ভূমিকা, লড়াই, সেটা তারা মাথায় রাখছে না। বিএনপির লড়াই-আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা গুম হওয়া আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ আজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। একমাসের আন্দোলনে নিশ্চিহ্ন হয়েছে; এটা ভাবা ঠিক হবে না। সেজন্য রাজনৈতিক বিবেচনায় বিএনপির প্রতিপক্ষ অনলাইন সোশ্যাল মিডিযা চার-প্রোপাগান্ডা যা এখনও পর্যন্ত ৮০ শতাংশর ওপর আওয়ামী লীগের দখলে আছে। তারা এটি সুপরিকল্পিতভাবে প্রচার করছে এবং তাদের হাতে যে টাকা আছে এটা ভাবা যাবে না। এজন্য একেবারেই অপপ্রচার।
ভারতনীতি নিয়ে বলেন, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারোর সঙ্গে শত্রুতা নয় এই নীতিতে চলি। আমাদের পার্র্শ্ববতী দেশ ভারত। পৃথিবীর সবাই জানে একজন নেত্রী, একটি দল আওয়ামী লীগ হাসিনা এর বাইরে কখনও ভাবে না। আর, এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বন্ধুত্ব জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত এটা আমরা দাবি করি। জিয়াউর রহমান ভারতকে চ্যালেঞ্জ করে জাতিসংঘে গিয়ে পদ্মার পানি আদায় করেছিলেন। এটা তার পরবর্তীতে বা আগে কোনো সরকার করেনি। এখনও পর্যন্ত আমরা মনে করি ভারতের সঙ্গে আমাদের সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব হতে পারে। দাসত্বের ভিত্তিতে বন্ধুত্ব হয় না। তার জলন্ত প্রমাণ তিস্তায় যে আন্দোলন, সে আন্দোলন বিএনপির নেতাকর্মীদের নেতৃত্বেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জামায়াত: মজার ব্যাপার হচ্ছে জামায়াত নির্বাচনে বিরোধিতা করছে। আর সে সর্বপ্রথম কোনো দল প্রার্থী ঘোষণা করেনি। কিন্তু ঘোষণা করছে। এই দলটা এমনই। বিএনপি ১৭ বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়ে আছে; একটি ভালো নির্বাচন করার জন্য। প্রস্তুতিতে আমাদের ঘাটতি নেই। আর প্রতিটি আসনে আমাদের কমপক্ষে ১০জন করে উপযুক্ত প্রার্থী আছে। কালকে ইলেকশন হলেও আমাদের কোনো সমস্যা হবে ন।
আমি এখানে যখন নির্বাচিত হই, তার আগে আমার বিরুদ্ধে যারা প্রচার-প্রচারণায় ছিলেন, তারা বলতো যে আমি চুয়াডাঙ্গায় থাকি না। আমি আসার পর এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী-জামায়াতের প্রার্থী ভয়াবহভাবে পরাজিত করেছিলাম। আমার ধারণা এখন যদি নির্বাচন করি যে কয়টি সিটে বিএনপি বেশি ভোট পায়, আমি এখানে প্রার্থী হলে তার থেকে কোনো অংশে কম ভোট পাবো না। আমি নির্বাচিত হয়েছি এখানে দুইবার এবং বিএনপি দলীয় সাবেক এমপির মধ্যে একমাত্র বেঁচে আছি। কমিটি গঠন জাতীয় নানান ঘটনার কারণে হয়তো হয়নি। তবে শিগগিরিই হয়ে যাবে।
খুন-চাদাবাজি: ৮০ শতাংশই হচ্ছে প্রচারণা। কারণ, বিএনপি থেকে স্পষ্টাকারে বলা হয়েছে মাঠঘাট দখল করছে, অথবা চাঁদাবাজি করছে এরা বিএনপির লোক না। কিন্তু প্রশাসন তাদেরকে অ্যারেস্ট করছে না। তারমানে এই ঘটনাগুলোর সাথে প্রশাসনের কোনো কোনোভাবে সম্পর্ক আছে। প্রশাসন এবং বিশেষ কিছু মহল এদেরকে রক্ষা করছে। সে বিএনপির নামে যত বড়ই দাবিদার হোক না কেন-এরা বিএনপির কেউ না। এটা তারেক রহমান সাহেব নিজে ঘোষণা করেছেন। সেই কারণে বিএনপির নামে এসব চাপানো হচ্ছে।
আমি মনে করি দেশবাসী সবসময়ই গণতন্ত্র প্রিয়। সবসময় স্বাধীনতার স্বপক্ষে। সবসময় একটি স্বস্তিদায়ক নির্ভেজাল জীবনযাপন করতে চায়। যেটির একটা সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি সেটা প্রত্যাশা করি এবং আমি জানি এই দেশবাসী সেখানে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবে।