গাংনী প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রাম ও রামনগর গ্রামের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে হৃদয় হোসেন নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেছে নিহত হৃদয় হোসেনের পক্ষের লোকজন। গতকাল বুধবার দুপুরে এ সংঘর্ষ হয়। নিহত হৃদয় (২৪) চরগোয়ালগ্রামের দিনমজুর শাহাদত হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য মিলনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাতে নিহত হৃয়দের পিতা শাহাদত হোসেন বাদি হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে গাংনী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, চরগোয়াল গ্রামের কেন্দ্রীয় গোরস্থানের অবস্থান রামনগর ও চরগোয়াল গ্রামের মাঝে মাঠের মধ্যে। ৪-৫ দিন আগে রামনগর গ্রামের মিরাজুল ইসলাম ওরফে মিরা নামের এক ব্যক্তি ট্রাক্টর ট্রলি নিয়ে মাঠে যায়। ট্রলি ঘোরাতে গিয়ে গোরস্থানের গেটের কিছু অংশ ভেঙে যায়। গেটের ক্ষতিপূরণের দাবিতে চরগোয়াল গ্রামের লোকজন গতকাল বুধবার সকালে রামনগর গ্রামের বাজারে যায়। স্থানীয় সদস্য মিলনের বাসার নিচ তলায় জান্নাত অটোতে বসে উভয়পক্ষ আলোচনা করছিলেন। এর আগে ট্রাক্টর ট্রলির চাবি কেড়ে নেয় চরগোয়াল গ্রামের কয়েকজন।
এদিকে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাতবিত-া এবং মারামারি শুরু হয়। এতে আহত হয় চরগোয়াল গ্রামের হৃদয় ও জান্নাত অটোর মালিক জান্নাত আলীসহ আরও কয়েকজন। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে বামন্দীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে হৃদয় মৃত্যুবরণ করে।
সকালে এ ঘটনার পর হৃদয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চরগোয়াল গ্রামের লোকজন গ্রামের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে রামনগর গ্রামের মোড়ে জান্নাত অটোতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে দুটি মোটরসাইকেল ও দোকানের সব কিছু পুড়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গাংনী থানার ওসি বানি ইসরাইল জানান, নিহত হৃদয়ের পিতা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। হত্যাকা-ের সাথে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, র্যাব ও সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। যেকোন প্রকার বিশৃংখলা রুখে দেয়া হবে বলে হুশিয়ারী করা হয় আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে।
নিহত হৃদয়ের পারিবারিক পরিচয় : এলাকার মানুষের অনেকেই হৃদয় সম্পর্কে নেতিবাচক নানা তথ্য দিয়েছেন। তার উচ্ছৃংখল চলাফেরা ও আচার ব্যবহারে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে তার পারিবারিক পরিচয় বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছেন গ্রামের মানুষ। চরগোয়াল গ্রামের ভ্যান চালক শাহাদত হোসেনের স্ত্রী মারা যায় বেশ কয়েক বছর আগে। ছেলেদের কথা ভেবে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আর গতকাল মারা যায় তার ছোট ছেলে হৃদয়। নিহত হৃদয়ের রয়েছে ছোট্ট দুই ছেলে। এসব অবুঝ শিশু এবং দুই ছেলের পরিবার নিয়ে দুঃখের অথৈ সাগরে পড়েছেন ভ্যান চালক শাহাদত হোসেন।
মেহেরপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, যারা হত্যকা-ের সঙ্গে জড়িত তারা চিহ্নিত। তাদেরকে গ্রেফতার করতে মাঠে নেমেছে পুলিশের একাধিক টিম। নিহতের পরিবারকে সুবিচার দিতে পুলিশের যা যা করণীয় তাই করা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান মিলনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করে গাংনী থানা পুলিশ। সাইদুর রহমান মিলন (৪৫) চরগোয়াল গ্রামের আব্দুর রহমান ওরফে ফুলচাঁদ মাস্টারের ছেলে। ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর দেশীয় তৈরি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলিসহ সাইদুর রহমান মিলনকে পুলিশ আটক করেছিলো এবং অস্ত্র আইনের মামলায় তার দশ বছরের কারাদ- হয়। এরপর ২০২১ সালের ৩ মার্চ আবার ইয়াবাসহ সাইদুর রহমান মিলনকে আটক করা হয়। এছাড়াও, সাইদুর রহমান মিলন ২০১৭ সালে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন এবং ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।