যশোর প্রতিনিধি: যশোর সদর উপজেলায় বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে ইজিবাইকের চালকসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার যশোর-মাগুরা মহাসড়কের লেবুতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-ইজিবাইক চালক যশোর সদরের সুলতানপুরের সাইফুলের ছেলে ইমরান হোসেন (২৭), বাঘারপাড়ার যাদবপুরের হেলালের জমজ দুই ছেলে হোসেন ও হোসাইন (২), তার মেয়ে খাদিজা (৭), একই গ্রামের বাবুল মুন্সির স্ত্রী ফাহিমা খাতুন (৩০) এবং অন্য দুইজন অজ্ঞাত।
স্থানীয় ও পুলিশসূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা বাজার থেকে ইজিবাইকে করে কয়েকজন যশোরে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে যানটি যশোর-মাগুরা মহাসড়কের লেবুতলা এলাকায় পৌঁছুলে যশোর থেকে ছেড়ে আসা একটি বাসের সঙ্গে ইজিবাইকটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইক চালক মুছাসহ পাঁচ যাত্রী নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে আরও দুজনকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
যশোর কোতয়ালি মডেল থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় একই পরিবারে পাঁচ জনসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। সবার নাম ঠিকানা এখনও পাওয়া যায়নি।
জাহাঙ্গীর হোসেন নামে স্থানীয় মুদিদোকানি বলেন, ‘যশোর থেকে একটি ইজিবাইক সাতজন যাত্রী নিয়ে লেবুতলা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে তেতুলতলা নামক স্থানে আসলে ইজিবাইকটি ডানে একটি বাইপাস সড়কে নামতে গেলে ইজিবাইকের পেছনে থাকা বাসটি তাদের পেছন থেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ৬ জন মারা যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, লেবুতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইজিবাইক চালকসহ সাতজন নিহত হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি। বাস ও ইজিবাইকটি জব্দ করা হয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসিফ মোহাম্মদ আলী হাসান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ ৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে নিহত স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।