যুগ্ম সচিব হলেন চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গার ‘গরিবের অফিসার’ আমিনুর রহমান

রহমান মুকুল: যুগ্ম সচিব হলেন চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গার সন্তান আমিনুর রহমান। বর্তমানে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে কর্মরত। গত ২০ মার্চ তিনি এ পদোন্নতি লাভ করেন। গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জামিলা শবনম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। এলাকার গরিব রোগীসহ আতুর মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ তিনি। সে কারণে এলাকায় তিনি ‘গরিবের অফিসার’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। আমিনুর রহমান আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের মজিবর রহমান ও পরিছুন নেছার ছেলে। ৭ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ৩য়। তার এক সহোদর হালিমুর রহমান বাবু পুলিশ পরিদর্শক ও অপর ভাই আনিসুর রহমান আলমডাঙ্গা পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। আমিনুর রহমান শৈশব থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু। ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করেন। পাইকপাড়া জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৮৮ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও খুলনার সরকারি বিএল কলেজ থেকে ১৯৯০ সালে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। মেধাবী আমিনুর রহমান এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হন। ১৯৯৭ সালে বুয়েট থেকে প্রথম শ্রেণিতে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। সে বছরই তিনি পেট্রোবাংলার রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেন। পেট্রোবাংলার আরপিজিসিএল-এ তিনি ডিসেম্বর ১৯৯৭ থেকে আগস্ট ২০০২ পর্যন্ত সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এবং আগস্ট ২০০২ থেকে জুলাই ২০০৫ পর্যন্ত উপ-ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকুরি করেন। এরই মধ্যে তিনি বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। ২০০৫ সালের ২ জানুয়ারি সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে প্রশাসন ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করেন। ইতোপূর্বে তিনি নরসিংদী জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট এবং এনডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা জেলা প্রশাসনে এনডিসি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিব ও সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে উপ-পরিচালক (গ্যাস), সমাজসেবা এবং চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব, উপসচিব হিসেবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিমিউ অ্যান্ড টিসিতে চীফ টেকনিক্যাল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেট্রোবাংলার আরপিজিসিএল-এ চাকুরিকালীন জ্ঞানপিপাসু আমিনুর রহমান বুয়েট থেকে অ্যাডভান্সড ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর সিভিল সার্ভিসে যোগ দেবার পর স্কলারশিপ নিয়ে তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ ডিগ্রি এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ইন ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রকৃতপক্ষে তার জ্ঞানপিপাসা সীমাহিন। তিনি ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)’র লাইফ ফেলো এবং অফিসার্স ক্লাব ঢাকা’র সদস্য। অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র, সদাচারী, মিশুক ও বন্ধুবৎসল হিসেবে সুখ্যাতি রয়েছে তার। ‘অন্যকে সাহায্য করার ক্ষমতা পাওয়া সত্যিই এক অসাধারণ উপহার আর এরই মধ্যে জীবনের সার্থকতা পেতে পারেন।’ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এই বাণিকেও তিনি অন্তরে লালন করেন। তাই তিনি এলাকার গরিব দুখীর কাছে ভরসার স্থল হয়ে উঠেছেন। ‘যে ব্যক্তি বিধবা, গরিব, অভাবী ও অসহায়দের সাহায্যের জন্য চেষ্টা-তদবির করে, সে আল্লাহর পথে ব্যস্ত ব্যক্তির সমতুল্য।’ (হযরত মুহাম্মদ সা.)। এ হাদিস তিনি অন্তরে ধারন করে দৃঢ়ভাবে। তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথেও জড়িত। এলাকাতেও তিনি নানাবিধ উন্নয়ন বিশেষ করে এতিমখানা, মসজিদ, ঈদগাহ উন্নয়নসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে সহযোগিতার হাত প্রসারিত রেখেছেন। এলাকায় আর্ত-মানবতার সেবায় তিনি রীতিমতো উদাহরণ। এলাকার গরিব রোগিদের জন্য সরকারি তহবিলের চেক তিনি নিজ হাতে বাড়ি পৌঁছে দেন। বিধবা ভাতা, বয়স্কভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দেন। বছরে একাধিকবার তিনি এই মহৎ কাজটি করে থাকেন। ফলে, এলাকাবাসী তাকে গরিবের অফিসার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। গরিব দুখীরা তাদের আপনজন ‘গরিবের অফিসার’ কবে বাড়ি আসবেন মাঝে মাঝে সে খবর নিয়ে যান। সরকারি কাজে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, চীন, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, সিংগাপুর, শ্রীলংকা ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। উত্তরোত্তর সাফল্যের জন্য তিনি এলাকাবাসীর শুভাশিষ ও অপত্যস্নেহে দোয়া কামনা করেছেন।