শুধু দল পরিচালনা নয় মানুষের সুখ-দুঃখেও পাশে থাকতে চাই

ঈদে ব্যস্ততার মাঝেও জনসংযোগ ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শরীফুজ্জামান

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করেছেন ধর্মীয় অনুভূতি, মানবিক দায়িত্ববোধ ও রাজনৈতিক সচেতনতার অনন্য সংমিশ্রণে। ঈদের দুই দিনজুড়ে তিনি শুধু নিজের ধর্মীয় আচার নয়, বরং দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ার এক ব্যস্ত সূচি পালন করেছেন। ঈদের দিন ভোরেই শুরু হয় তার কর্মব্যস্ততা। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ চাঁদমারি মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন তিনি। নামাজ শেষে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে সকাল ৯টায় যান জান্নাতুল মওলা কবরস্থানে। সেখানে বড় ভাইসহ প্রয়াত স্বজনদের কবর জিয়ারত করেন।
বাদ জোহর তিনি যান পাঁচকমলাপুর মাদরাসা প্রাঙ্গণে, যেখানে পিতা-মাতার কবর জিয়ারত শেষে এতিম ও দুস্থদের জন্য আয়োজন করেন খাবারের। মাদরাসা মসজিদে বাদ আসর নামাজ আদায় করে তিনি খাদিমপুর ইউনিয়নে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ঈদের সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ শেষে নিজ বাসভবন মুক্তিপাড়ায় দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এই বৈঠক চলে রাত ১২টা পর্যন্ত। ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে উপস্থিত শরীফুজ্জামান উপস্থিত হন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ মাঠে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনীতে। সেখানে ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দলের কার্যক্রম নিয়ে নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এরপর বিকেল ৪টায় আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপি কার্যালয়ে ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাত ৯টা পর্যন্ত। রাত ১০টায় ফিরে আসেন চুয়াডাঙ্গা শহরে নিজ বাসভবনে। সেখানে জেলা ও পৌর বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে অংশ নেন নৈশভোজে। ঈদের দ্বিতীয় দিনজুড়ে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এই নেতা।
এছাড়াও ঈদের তৃতীয় দিনও ব্যস্ততায় কাটান তিনি। এদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। নেতা-কর্মীরা তাদের প্রিয় নেতাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে দূর-দূরান্ত থেকে তার বাড়ি ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছুটে আসেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘ঈদ হলো ভালোবাসা ও সম্প্রীতির উৎসব। এই দিনে আমি চেষ্টা করেছি সবাইকে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। ঈদের নামাজ শেষে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছি, কুশল বিনিময় করেছি। প্রয়াত বাবা-মা ও স্বজনদের কবর জিয়ারত করেছি, যেন তাদের জন্য দোয়া করতে পারি। মাদরাসায় এতিম শিশু ও দুস্থ মানুষদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পেরে আত্মতৃপ্তি পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, একজন রাজনৈতিক নেতার দায়িত্ব শুধু দল পরিচালনা নয়, সমাজের মানুষের সুখ-দুঃখেও পাশে থাকা। এই ঈদের মাধ্যমে আমি সেই দায়বদ্ধতা পালন করার চেষ্টা করেছি। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি যেমন চলবে, তেমনি মানবিক কাজেও সক্রিয় থাকতে চাই সবসময়। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্য গড়ে তুলতে আমি সবসময় আন্তরিক।’ বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, ‘এই ঈদ তার জন্য ছিল শুধু আনন্দের নয়, বরং একটি দায়িত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক দিন। ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি এতিম, দুস্থ এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।’

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More