বয়স্ক ভাতার কার্ড পেতে দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে তৈরি করা হলো মৃত্যুর সনদ

আলমডাঙ্গার গাংনী ইউনিয়ন পরিষদের উদোক্তা মারুফের কান্ড

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার গাংনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এক ইউপি সদস্যসহ পরিষদের উদ্যোক্তা মারুফের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন মনিরুজ্জামান নামের এক ভুক্তভোগী। বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়ার জন্য দাবিকৃত অর্থ না দেয়ায় উল্টো মৃত্যুর সনদ সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে ঘটনার সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
জানা গেছে, গত ৩ মাস পূর্বে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের বড় গাংনী গ্রামের মৃত করিম ম-লের ছেলে বৃদ্ধ মুনছুর আলী (৮১) বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেন। মুনছুর আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান দৈনিক মাথাভাঙ্গাকে অভিযোগ করে বলেন, আমাদের না জানিয়ে বাবা বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য আবেদন করেন। এরপরই ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মারুফ ও ইউপি সদস্য লালন উদ্দিন চৌকিদার রতনকে আমাদের বাড়িতে পাঠায় এবং ছয় হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিয়ে উলটো চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ করা হয়। এই টাকা না দেয়ার কারণে হিংসাত্মকভাবে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যেন কোথাও কোনো সুবিধা না পায় আমার বাবা।
মনিরুজ্জামান আরও বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আমার একজন আত্মীয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর সনদের বিষয়টি জানতে পারি। এরপরই আমি ইউএনও, ইউপি চেয়ারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়েছি। তারা দুদিনের মধ্যে সংশোধন করে দেবেন বলে জানালেও তা করে দেননি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে শাস্তির দাবি করছি। এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মারুফের নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
চৌকিচার রতন দৈনিক মাথাভাঙ্গাকে বলেন, উদ্যোক্তা মারুফ ভাই আমাকে বলেছিলেন, দুজনকে ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়া হবে এমন কেউ থাকলে কাগজপত্রসহ তার নিকট পাঠাতে। এরপরই আমি মুনছুর চাচাকে কাগজপত্র নিয়ে উদ্যোক্তা মারুফ ভাইয়ের নিকট যেতে বলি। তবে টাকার বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। কেউ টাকাও চাইনি।
ইউপি সদস্য লালন উদ্দিন দৈনিক মাথাভাঙ্গাকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমি কখনোই টাকা চাইনি। মূলত মনিরুজ্জামান আমার প্রতিবেশী। গত ইউপি নির্বাচনে মনিরুজ্জামান আমার বিরোধীতা করেছিলেন। অন্য এক পক্ষের হয়ে কাজ করেছেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে মনোমালিন্য।
ইউপি সদস্য লালন উদ্দিন বলেন, টাকা চাওয়ার বিষয়টি এর আগেও আমার কানে এসেছিল। সে সময় আমি গ্রামের গণমান্য ব্যক্তিদের ডেকেছিলাম। টাকার চাওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেনি মনিরুজ্জামান। এবার আবারো সেই একই অভিযোগ করছে আমার নামে। আমি এবার থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করব।
গাংনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুন্সি মো. এমদাদুল হক দৈনিক মাথাভাঙ্গাকে বলেন, মৃত্যুর সনদ কিভাবে এন্ট্রি করা হলো সেটা আমি জানি না। উদ্যোক্তা মারুফ এটা করেছে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে তার ভুল স্বীকার করে বলেছে, ভুলবশত এমনটি হয়েছে। সংশোধন করে দেয়া হবে। এছাড়া টাকা চাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেন, উদ্যোক্তা মারুফ টাকা চেয়েছে বলে জেনেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম দৈনিক মাথাভাঙ্গাকে বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মৃত্যুর সনদ প্রস্তুতের জন্য একটি প্রসেসিং আছে। কিভাবে এমন ঘটনা ঘটলো সেটা জানার জন্য উপজেলা ইউএনওকে বলেছি। তিনি বিষয়ে তদন্ত করবেন। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More