দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুরে শিশু সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও পাশে দাঁড়াইনি কেউ : ফাঁসির দাবিতে বাবা-মায়ের অর্তনাদ
দর্শনা অফিস: দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুরে ৭ বছর বয়সি শিশু সুমাইয়াকে ধর্ষণ শেষে হত্যা মামলা এখনো বিচারাধীন। ৫ বছর ২ মাস পেরিয়ে গেলেও নিহত সুমাইয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়াইনি কেউ। এখনো নিয়মিত আদালতে দৌড়াতে হচ্ছে হতভাগা বাবা-মায়ের। অভিযুক্ত ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে মায়ের অর্তনাদ যেন থামছেনা। দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ মোড় পাড়ার কাঠুরে নাসির উদ্দিনের ছয়ঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া খাতুন। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের মতো স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেছিলো ঠিক দুপুর ১২টার দিকে। স্কুল পোষাক পাল্টিয়ে বাড়ি থেকে খেলার জন্য সুমাইয়া বের হয়েছিলো ঠিকই কিন্তু ফেরেনি আর বাড়িতে। বিকেল পর্যন্ত মেয়ে বাড়ি না ফেরায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। খুঁজতে খুঁজতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত শুরু হলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি সুমাইয়াকে। রাত ৮টার দিকে গ্রামসহ আশপাশ এলাকায় সুমাইয়া নিখোঁজের মাইকিংও করা হয়েছিলো। মাইকিংয়েও কোনো প্রকার সন্ধান না পাওয়ায় রাত ৯টার দিকে গ্রামবাসী দল বেধে লাইট হাতে মাঠ-ঘাট খোঁজা শুরু করে। রাত সোয়া ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠের আয়ুব আলীর শিম বাগানে সুমাইয়ার ক্ষত-বিক্ষত বিবস্ত্র লাশ পড়ে থাকতে দেখে চমকে উঠেছিলো সবাই। লাশের পাশে পড়ে থাকা শ্যাম্পুর প্যাকেটের সূত্র ধরে স্থানীয় দোকানীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। ইউনিয়ন মোড় এলাকার মুদি দোকানী হামিদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ জানতে পারে, কাউন্সিলর মোড়পাড়ার ইসলাম আলীর ছেলে অভিযুক্ত লম্পট মোমিনুল দুটি শ্যাম্পু কিনেছিলো। ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করে মোমিনুলকে। গ্রেফতারকৃত মোমিনুল পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শিশু সুমাইয়াকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যাসহ চাঞ্চল্যকর বহু তথ্য দেয়। ওই ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা নাসিরুল ইসলাম বাদী হয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক মোমিনুলের ততকালীন দামুড়হুদা থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ইন্সপেক্টর শেখ মাহবুবুর রহমান। অভিযুক্ত লম্পট ধর্ষক ও খুনি মোমিনুলের ফাঁসির দাবিতে ফুসে উঠেছে গোটা ইউনিয়নবাসী। ফাঁসির দাবিতে পারকৃষ্ণপুর বাজার ও মেমনগর মোড়ে করা হয়েছে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও হয়েছে সেসময়। নিহত সুমাইয়ার বাবা নাসিরুল ইসলাম ও মা পলি খাতুন আর্তনাদ করে বলেন, সম্প্রতি আছিয়া নামের এক শিশু মেয়েকেও আমাদের মেয়ের মতো ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। মাস না যেতেই সে খুনের শাস্তির ব্যবস্থা হচ্ছে শুনেছি। তবে ৫ বছর ২ মাস পেরিয়ে গেলেও আমাদের ময়ের খুনির ফাঁসি কেন এখনো হচ্ছেনা। আর কতদিন আদালতে ছুটতে হবে আমাদের ? আমরাতো দরিদ্র মানুষ। আর কতদিন আদালতে গিয়ে পয়সা খরচ করতে হবে মেয়ের খুনির ফাঁসির জন্য। এদিকে সুমাইয়া হত্যাকান্ড ঘটনার পর থেকে কোনো মানবধিকার সংস্থা খোঁজ নেয়নি বলেও পলি খাতুন জানিয়েছেন।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.