শেখ রাকিব: ঈদের ছুটি প্রায় শেষের দিকে। তাই তো নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা কর্মজীবীরা ফিরতে শুরু করেছেন কর্মস্থলে। ট্রেন ও বাসগুলোতে কর্মস্থলে ফিরতে দেখা গেছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ভাষ্য, এবার ঈদে টানা নয়দিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। আবার বেসরকারি চাকরিজীবীদের অনেকে গড়ে চারদিন ছুটি পেয়েছেন। তারা শুক্রবার থেকে ঢাকা বা তাদের নিজ কর্মস্থলে ফেরা শুরু করেছেন। এরমধ্যে যাদের ছুটি আরও কম, তারা আগে থেকেই ঢাকায় আসছেন। তাদের যাতায়াতে যানজটসহ অন্য কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। আর এতেই ট্রেনগুলোতে বেড়েছে ভিড়। গতকাল শুক্রবার খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন চুয়াডাঙ্গা পৌঁছালে ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের ভিড়ের দেখা মেলে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশনেও অনেক যাত্রীকে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মে অনেকে দাঁড়িয়ে আছেন। অপেক্ষা করছেন ট্রেনের। এর মধ্যে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিত্রা এক্সপ্রেস স্টেশনে পৌঁছায়। পরে অপেক্ষাকৃতরা ট্রেনে উঠতে থাকেন। ওই ট্রেনে থাকা বেসরকারি চাকুরিজীবী সালমান নোমান বলেন, ‘স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। ছুটি শেষ। তাই ঢাকায় ফিরছি।’ নাদিয়া রহমান নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘ঈদ পালন করতে চুয়াডাঙ্গাতে বোনের বাড়িতে গিয়েছিলাম। কাল অফিস শুরু হবে। তাই ফিরছি।’ চুয়াডাঙ্গায় রেল স্টেশন ও জেলার আন্ত:নগর বাস কাউন্টারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে আবারো প্রিয় জনকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। সকাল থেকে দেখা গিয়েছে চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে হাজার মানুষের ঢল। ট্রেনের সিটের জায়গা না থাকায়, সাধারণ যাত্রীরা দাঁড়িয়েই যাচ্ছেন। যাত্রীদের চাপে ট্রেনের ভিতরে পা ফেলার জায়গা নাই। তারপরও, নিজ চাকরি ঠিকানায় আবারো ফিরছেন। এদিকে প্রিয় মানুষদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবার নিয়ে নিজ গ্রামে ঈদ উদযাপন করতে এসেছেন অনেকেই। এবার ঈদ শেষে আবারো নিজ গন্তব্যে বা কর্মস্থালে যেতে দেখা গেছে। বিল্লাল হোসেন নামের এক ট্রেনের যাত্রী বলেন, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চুয়াডাঙ্গাতে এসেছিলাম। ছুটির আগেই প্রিয়জনদের ছেড়ে নিজ কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। মেহেদী হোসেন নামের আরেক যাত্রী জানান, টিকিট না পাওয়ায় দাঁড়িয়েই ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। ছুটি শেষ হবার আগেই পৌছাতে হবে৷ চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, গত বুধবার থেকে যাত্রীদের চাপ শুরু হয়েছে। সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন। যারা টিকেট পাইনি তারা তাৎক্ষণিক টিকিট কাটছেন।
পূর্ববর্তী পোস্ট
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.