চুয়াডাঙ্গার ৬২ আড়িয়ায় আগুনে দগ্ধ শিশু তাবাসসুম আর নেই

গড়াইটুপি প্রতিনিধি: গত ১০ দিনের জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে পারেনি শিশু তাবাসসুম। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে ৩৮ দিন বসয়ী ছোট্ট তাবাসসুম। তাবাসসুম চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ৬২নং আড়িয়া গ্রামের আব্দুস সালামের মেয়ে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মার্চ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ৬২নং আড়িয়ার সরকারি আবাসনে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুনে দগ্ধ হয় শিশু তাবাসসুম। পরে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে জরুরী বিভাগে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। হতভাগ্য দরিদ্র পিতা আব্দুস সালামের পক্ষে তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরে অসহায় পিতা আব্দুস সালামের পাশে দাঁড়িয়ে তার চিকিৎসার দায়িত্বভার গ্রহণ করে চুয়াডাঙ্গার অন্যতম পরিবেশবাদী সংগঠন মানবতার জন্য। মানবতার জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি পাশে দাঁড়ানোর পর শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তর করতে বলেন চিকিৎসক। পরে সেখান থেকে শিশু তাবাসসুমকে দ্রুত ঢাকা জাতীয় বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শিশু তাবাসসুম চিকিৎসাধীন ছিল। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটি সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যায়।
মানবতার জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবীব বলেন, আমরা ঘটনার দিন হতে তাবাসসুমের পাশে ছিলাম। তার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চিকিৎসা জন্য মানবিক সাহায্য চাওয়া হয়। এতে দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। কিন্তু আল্লাহর ডাকে সে সাড়া দিয়ে আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহিন সরকার বলেন, গত ২৩ মার্চ রাতেও তার রক্ত লাগে। আমরা তার রক্তের ব্যবস্থা করে দিই। ভেবেছিলাম তাবাসসুম ফিরে আসবে। এখনো তার মায়া মুখটা ভেসে ওঠে। আমাদের চেষ্টার কমতি ছিল না। মেনে নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিশু তাবাসসুমের লাশের গাড়ি পথে রয়েছে বলে জানা যায়।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More