আলমডাঙ্গায় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান

অবৈধ ২ ইটভাটায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: ইটভাটার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকা ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ইটভাটা ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় আলমডাঙ্গার দুটি ইটভাটা মালিককে ৬০ হাজার করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসুর নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদপ্তর আলমডাঙ্গা শহরের পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পরিচালনা করে ওই জরিমানা আদায় করেন।
জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলায় মোট ২২টি ইটভাটা রয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র ৩টি বৈধভাবে ব্যবসা করছে। বাকী ১৯টি অবৈধভাবে বছরের পর বছর ব্যবসা করছে।
সম্প্রতি হাইকোর্টের আদেশে অবৈধ ১৯টি ইটভাটা ভাটা বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু ফরিদপুর গ্রামে অবস্থিত দুটি ইটভাটায় হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইটভাটা চালু রেখেছে। এমন অভিযোগ পেয়ে বুধবার দুপুরে ভাটা দুটিতে অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তরের টিম। সে সময় অভিযান টিম এসএনবি ইটভাটার মালিক জাবুরকে ৬০ হাজার টাকা ও আরএনবি ইটভাটার ম্যানেজার ঠান্ডুর রহমানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই জরিমানা করেন। এ সময় সাথে ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরির্দশক নাঈম হোসেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আলমডাঙ্গার বেশ কিছু ইটভাটা মালিক হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইট পুড়িয়ে যাচ্ছেন। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার বসুর নেতৃত্বে গতকাল উপজেলার ফরিদপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার বসু বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই দুই ইটভাটায় গিয়ে চলতি বছরের নবায়নের কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু এসব ইটভাটার কাগজপত্র নবায়ন করা নেই। সেই সঙ্গে ইট তৈরিতে ব্যবহৃত মাটির কোনো চালান নেই। এমনকি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই চালিয়ে যাচ্ছে। এমন নানা অনিয়মের দায়ে দুটি ইটভাটাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসব ভাটায় পুনরায় কার্যক্রম পরিচালিত হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, এই অভিযানের ফলে আলমডাঙ্গার বাকী আরও ১৭টি অবৈধ ইটভাটা মালিকের ভেতর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More