রহমান মুকুল: ‘ফিরে চল্, ফিরে চল্, ফিরে চল্ মাটির টানে/যে মাটি আঁচল পেতে চেয়ে আছে মুখের পানে। মা-মাটি-মাতৃভূমি তো স্বর্গের সমান। তাই তো জন্মভূমিকে স্বর্গাদর্পী বলা হয়। তাই তো আমাদের ‘গরিবের অফিসার’ খ্যাত যুগ্ম সচিব আমিনুর রহমান পূর্বাপর এবারও ঈদের আনন্দ নিজ জন্ম এলাকার মানুষের সাথে একান্ত আপনারজনদের সাথে ভাগাভাগি করতে গ্রামে এসেছেন। আলমডাঙ্গার বলরামপুর গ্রামের সন্তান বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব আমিনুর রহমান। ঠিক ঈদের আগে তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতি তিনি যখন পান, সে সময়েও দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজে তিনি বিদেশে। দ্রুত বাড়ি ফিরে দাপ্তরিক অনেক কাজ শেষে অনেক ইচ্ছে সত্বেও ঈদের পূর্বে বাড়ি ফিরতে পারেননি। জন্মস্থান অন্তপ্রাণ তিনি ঈদের পরদিন গ্রামে চলে এসেছেন। সাথে করে নিয়ে এসেছেন এলাকার দুস্থ ও হতদরিদ্রদের জন্য যথারীতি সরকারি সহযোগিতা। আমাদের মতো অভাগা দেশে একজন যুগ্ম সচিব বিদেশে ঈদ করতে যাবেন এটা স্বাভাবিক। নিদেন পক্ষে রাজধানীতে ঈদ উদযাপন করবেন। কিন্তু প্রতি বছর প্রতি ঈদে নিয়ম করে গ্রামে ঈদ করতে যান-এমন ঘটনা সত্যি বিরল। এলাকাবাসী, আত্মীয় পরিজনদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ছাড়া তা সম্ভবপর না। শুধুই কি প্রিয়জন, আপনারজনদের সান্নিধ্যের জন্যই যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ব্যক্তি ছুটে আসেন নিজ গ্রামে? নাকি তারও অধিক অন্যকিছু, যা খুব সংগোপনে হৃদয়ের অতল প্রদেশে আজন্ম লালন করে চলেছেন। হয়তো নাগরিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে, কান্না জড়ানো একান্ত নিসঙ্গতা দূর করতে গ্রামে ছুটে আসেন, আপনারজনদের নিবিড় সান্নিধ্যে আসেন। কবি জীবনানন্দ দাস বনলতা সেনের কাছে যে শান্তি খুঁজতে গিয়েছিলেন তিনিও তেমন দু দন্ড শান্তি পেতে গ্রামে আসেন, প্রিয়জনদের সাথে একাকার হতে আসেন। শৈশব কৈশরের দুর্দান্ত স্মৃতির দারস্থ হতে। গত বুধবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে আমিনুর রহমান আলমডাঙ্গা শহীদমিনার চত্বরে অন্তরঙ্গ সময় অতিবাহিত করেন। এসএসসি-৮৮ ব্যাচের অর্ধশত বন্ধুদের সাথে তিনি জম্পেশ আড্ডা দেন। সে আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুহুল কুদ্দুস শিপন, জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার খালিদ মাহমুদ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ডা. নাসিমুজ্জামান মিলন, সদ্য এলপিআরে যাওয়া লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ইশতিয়াক আহমেদ মঞ্জু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এমদাদ হোসেন, মিজানুর রহমান, আলমডাঙ্গা নাগরিক কমিটির সেক্রেটারি চঞ্চল মাহমুদসহ নানা শ্রেণি ও পেশার বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। সবিশেষ আন্তরিক পরিবেশে সকলেই কমবেশি ব্যক্তিগত ও নিজ এলাকার উন্নয়নে সহযোগিতার দাবিতে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। বরাবরের মত তিনিও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বন্ধুত্ব এমন এক সম্পর্ক, যা রক্তের সম্পর্কের চেয়েও যে কতটা গভীর হতে পারে, তার জাজ্বল্যমান উদাহরণ হয়ে থাকবে এই আড্ডা। বন্ধুদের হৃদয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসায় চৈত্রের শরাব প্রেমের সুরাহী সন্ধ্যা এক অনুপ বিভায় ভরে উঠেছিল। শেষে রাতের খাওয়ার আয়োজন ছিল রাজধানী ক্যাফে এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। এরপূর্বে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু বাড়িতে উপস্থিত হয়ে যুগ্ম সচিব আমিনুর রহমানকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
পূর্ববর্তী পোস্ট
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.