ব্যাপক আনন্দ-উৎসাহ ও নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া হয়েছে। এবার স্বৈরাচারমুক্ত পরিবেশে বাঙালির এ উৎসব পেয়েছিল নতুন মাত্রা। পয়লা বৈশাখের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে। এবারের পয়লা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। এ শোভাযাত্রায় প্রথমবারের মতো ২৮টি জাতিগোষ্ঠীর কয়েক শ শিল্পী বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ভোরের আলো ফুটতেই জনস্রোত জমতে শুরু করে চারুকলা প্রাঙ্গণে। টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায়ও ছিল মানুষের ঢল। শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন অনেক বিদেশি নাগরিকও। এতে নানা শিল্পকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে এ দেশের মানুষের সংগ্রামের রূপ। শোভাযাত্রার শিল্পকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গত বছরের ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের চিত্র। ছিল ফ্যাসিবাদের বিশালাকৃতির মুখাবয়বও। বস্তুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানুষকে আনন্দ, উচ্ছ্বাস এবং মনের ভাবও প্রকাশ করতে হয়েছে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত এক পরিবেশে। এবার বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহকারীরা প্রাণখুলে আনন্দ, উচ্ছ্বাস এবং মনের ভাব প্রকাশ করতে পেরে স্বস্তি পেয়েছেন।
এবারের বাংলা নববর্ষ উদযাপনে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ড্রোন শো। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এ ড্রোন শো প্রদর্শিত হয়েছে। ড্রোনের আলোয় তুলে ধরা হয় নতুন এক বাংলাদেশের গল্প। ঢাকার আকাশে দেখা যায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ‘বুলেটের সামনে দাঁড়ানো আবু সাঈদ’, ‘পানির বোতল হাতে প্রতীকী মুগ্ধ’-এরকম আরও অনেক প্রতিচ্ছবি। ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের কারিগরি সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহায়তায় এ ড্রোন শোর আয়োজন করা হয়। জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ ও গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার প্রতিবাদও এতে স্থান পেয়েছে প্রতীকীভাবে। নববর্ষে আমরা ঘর থেকে বের হয়ে শুধু যে মানুষ ও প্রকৃতির বিশালতা ও বৈচিত্র্য অনুভব করি তা-ই নয়, ব্যতিক্রমী মমত্ববোধ আমাদের বড় কিছু করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য আমরা আরও ব্যাকুল হয়ে উঠি। আমাদের এই ব্যাকুলতার সম্মিলিত প্রয়াস জাতি হিসাবে বিশ্বে আমাদের মর্যাদাকে উচ্চতার নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতেও উদ্বুদ্ধ করে। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর সারা দেশের মানুষ মুক্ত ও আনন্দঘন পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন করতে পেরেছে। এমন পরিবেশ যেন সর্বদাই বজায় থাকে।
পূর্ববর্তী পোস্ট
চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরসহ সারা বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপন
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.