এ বছর থেকেই দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে

 

স্টাফ রিপোর্টার: এ বছর থেকেই (২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ) দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির আলোকে পৃথক প্রশ্নপত্রে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তিনটি শাখার বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলোর স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তির জন্যও এ প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে। এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের স্বল্প সময়ের মধ্যে অনলাইনে দরখাস্ত আহ্বান করা হবে। নভেম্বর মাসের মধ্যেই ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। কেন্দ্রীয় মেধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার আলোকে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে উপস্থিত সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা সর্ব সম্মতিক্রমে এ পদ্ধতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, এই পরীক্ষার নাম ‘গুচ্ছ’ বা ‘সমন্বিত’ নাম হবে না। ‘কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি’ নামে এই পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে। তিনি জানান, চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের কারণে এই প্রক্রিয়ায় আসতে হলে একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হবে। তারা একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন এখন নিতে পারেনি। এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয়ভাবে এই পরীক্ষায় অংশ না নিলেও বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে।

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে। তবে তারা চায়, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বুয়েটের নেতৃত্বে গুচ্ছ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান বলেন, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন না। তাই এসব বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত না। তিনি বলেন, এটাকে সমন্বিত কিংবা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা বলা যাবে না। এটি কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন-জাবিতে তিনটি শাখায় (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায়) ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে থাকি। ঠিক তেমনি কেন্দ্রীয়ভাবে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এটার তদারকি করবে ইউজিসি। এ প্রক্রিয়ায় অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করবে। তবে যারা ইচ্ছুক না তারা করবে না। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সাথে আজ বুধবার বৈঠক করবে। এ  বৈঠক থেকে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদসহ ২৮টি বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.