|
|
ডেসটিনির এমডি ও চেয়ারম্যানের অপরাধ স্বীকার  স্টাফ রিপোর্টার: ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ কারণে রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এমডি রফিকুল আমিন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায় সংশ্লিষ্ট মামলায় তাদেরকে আর রিমান্ডে রাখার প্রয়োজন নেই বলে দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অপরদিকে ভারতে মোহাম্মদ হোসেনের আলিসান বাড়ি ও অসমবয়সী বিয়ের বিষয়টি সবে আলোচনায় উঠতে শুরু করেছে।
ডেসটিনির অবৈধ সব কর্মকাণ্ডের জন্য আরও পাঁচ সরকারি সংস্থাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংস্থাগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, সমবায় অধিদপ্তর এবং যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় (রেজসকো)।
দুদক সূত্র জানায়, রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেন গত ৫ দিন রিমান্ডে থাকা অবস্থায় নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জবানবন্দি দেন এবং গতকাল সকালে একই জবানবন্দি আদালতে দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। ফলে, সংশ্লিষ্ট মামলায় রিমান্ডের কার্যক্রম শেষ করতে দুদক কর্মকর্তারা রাজি হন এবং রফিকুল ও মোহাম্মদ হোসেনকে গতকাল দুপুর দুটায় আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন। এক্ষেত্রে রফিকুল আমিনকে ঢাকা মহানগর হাকিম হারুনুর রশিদের আদালতে এবং মোহাম্মদ হোসেনকে সাইফুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তারা লিখিতভাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবান্দি দেন। এ বিষয়ে দুদক কর্মকর্তারা জানান, বিপুল পরিমাণ মুনাফা দেয়ার লোভ দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের কাছে থেকে হাজার হাজার কোটি টাক হাতিয়ে নেয়ার সত্যতা স্বীকার করেন রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেন। পরে এ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশে গোপনে দেশে ও বিদেশে সরিয়ে ফেলেন।
গত ১৭ অক্টোবর রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেন গ্রেফতার হন। ১৮ অক্টোবর দুটি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ৯ দিন করে মোট ১৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। অর্থ পাচারের অভিযোগে ৩১ জুলাই দুটি মামলা করে দুদক। রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেনসহ এ দু মামলায় মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়।
অপরদিকে দোষ স্বীকারের পর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের ভারতের নদীয় জেলার চাকদা রসুলাপুরে বিয়ের প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে আলোচনায়। হোসেন রসুলাপুরের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে মমতাজকে ধুমধামের সাথে বিয়ে করে। বয়সের ব্যবধান অনেক। মমতাজকে ডেসটিনির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন ধুমধামের সাথে বিয়ে করলেও বাংলাদেশে তা গোপনই থেকে যায়। বিয়ের বেশ কিছু তথ্য মাথাভাঙ্গার হস্তগত হয়েছে। ঈদের পর সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
|
|