|
|
তোফায়েল-মেননের প্রত্যাখ্যান সরকারের পরাজয়
স্টাফ রিপোর্টার: দু অভিজ্ঞ রাজনীতিকের মন্ত্রিসভায় যোগদানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখান সরকারের জন্য রাজনৈতিক পরাজয় বলে মনে করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক চিত্র প্রর্দশনীর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদেরকে দলের এ প্রতিক্রিয়ার কথা জানান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তোফায়েল আহমেদ ও রাশেদ খান মেননের মতো প্রবীণ রাজনীতিকরা বুঝতে পেরেছেন, সরকারের সময় শেষ হয়ে গেছে। সরকারের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই। তাই তারা মনে করেছেন, ডুবন্ত নৌকায় এখন ওঠা ঠিক হবে না।
সরকারের মেয়াদ আর এক বছর বাকি থাকতে গত বুধবার রাতে সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ার জন্য তোফায়েল আহমেদ, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু ও মুজিবুল হককে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আমন্ত্রণ পান ওমর ফারুক চৌধুরী ও আব্দুল হাই। সে অনুযায়ী বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানেরও প্রস্তুতি নেয়া হয়; কিন্তু সকালে পলিটব্যুরোর সদস্যদের সাথে বৈঠক করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মন্ত্রিসভায় যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানান। একই সিদ্ধান্ত জানান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ। বিকেলে মির্জা ফখরুল ধানমণ্ডির ঢাকা আর্ট সেন্টারে শিল্পী এফএম আনিসের একক চিত্র প্রর্দশনীর উদ্বোধন করেন। তিনি শিল্পীর আঁকা ৩২টি চিত্রকর্ম ঘুরে ঘুরে দেখেন। রঙ আর তুলির আঁচড়ে নবীন এ শিল্পী দেশের গ্রাম-বাংলার জীবন-প্রকৃতিকে তুলে এনেছেন। এটি শিল্পী আনিসের দ্বিতীয় প্রদর্শনী। ১৪ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ প্রদর্শনী চলবে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদ ও রাশেদ খান মেনন দুজনই দেশের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। মুক্তিযুদ্ধে তাদের বিশাল অবদান রয়েছে। সরকারের শেষ সময়ে তারা মন্ত্রিসভায় না গিয়ে সঠিক ও যর্থাথ কাজ করেছেন। তিনি আবারো সরকারের কথিত ব্যর্থতার সমালোচনা করে দাবি করেন যে, সাড়ে ৩ বছরে এ সরকার দেশের জনগণের প্রতি কোনো ওয়াদা পূরণ করতে পারেনি। এরকম অবস্থায় বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে তারা সরকারে যোগ না দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে রক্ষা করতে পেরেছেন বলে আমরা মনে করি। এজন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। এ সময় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস’র সাধারণ সম্পাদক মনির খানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
|
|