|
|
৭ শ ভরি সোনার গয়না চুরির হোতা গৃহকর্মী শিউলি ৩ সঙ্গীসহ গ্রেফতার 
স্টাফ রিপোর্টার: গৃহকর্মী সেজে বাসা-বাড়িতে চুরির ঘটনায় সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছে। সে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সুযোগমতো সোনার গয়না ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে পালিয়ে যেতো। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে শিউলি ওরফে হোসনা ওরফে ফারজানা ওরফে লাকি (২৯), শাহীন (২৭), সুজন কুণ্ডু (২৮) ও তারিফ আলী (৩২)। তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী রাজধানীর এক গয়নার দোকান থেকে ৪০ ভরি চোরাই সোনার গয়না উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। শিউলি স্বীকার করেছে যে, এ পর্যন্ত বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে সে অন্তত ৭০০ ভরি সোনার গয়না এবং নগদ ১০/১২ লাখ টাকা চুরি করেছে।
গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মসিউর রহমান জানান, চোরদলের মহিলা সদস্য শিউলি বেগম কাজের বুয়া সেজে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেয়। পরে সুযোগ বুঝে অন্যদের সহায়তায় বাসার লোকজনদের নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায়। শিউলি এর আগেও ঢাকার বিভিন্ন থানায় গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছে। জামিনে বের হয়ে আবারও একই অপরাধ শুরু করে সে। মিরপুর, পল্লবী ও শাহআলীসহ বিভিন্ন এলাকায় চুরির সাথে জড়িত থাকার কথা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে শিউলি।
এডিসি মসিউর রহমান জানান, ঢাকার রূপনগর থানার একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ১৭ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালায়। সেখান থেকে শিউলিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে গোয়েন্দা পুলিশকে জানায়, সে গত ৭ আগস্ট রূপনগর এলাকা থেকে ৪টি নেকলেস, ৪টি কানের দুল, ৪টি টিকলি, ৪টি মানতাসা, ৪টি বালা ও ৪টি টায়রাসহ প্রায় ৪৪ ভরি সোনার গয়না এবং ২ লাখ ২০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। পরে চোরাইকৃত মালামাল ও টাকা-পয়সার অর্ধেক তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী তারিফ আলীকে ভাগ করে দেয়। ২০ ভরি সোনার গয়না মিরপুর শাহআলী থানাধীন মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেটের ৯৪ নং দোকান আল হারুন জুয়েলার্সে প্রতি ভরি ১৫ হাজার টাকা হিসেবে বিক্রি করে।
শিউলীর স্বীকারোক্তির পরিপ্রেক্ষিতে তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী তারিফকে রূপনগর থেকে গত ১১ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেও ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। শিউলির দেয়া তথ্যানুযায়ী গত বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় শাহআলী থানার আল হারুন জুয়েলার্স দোকানে অভিযান চালিয়ে ম্যানেজার শাহীন (৩০) ও কর্মচারী সুজনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, শিউলীর কাছ থেকে ৭ আগস্ট বেলা ১১টায় ২০ ভরি সোনা এবং গত রমজান মাসের ২/৩ দিন আগে আরও ২০ ভরি সোনার গয়না কেনে। আসামি শিউলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, গত রমজান মাসের আগে মিরপুর, পল্লবী, রূপনগর, কাফরুল এলাকার আরও একাধিক বাসা থেকে সে কাজের বুয়া সেজে সোনার গয়না চুরি করে একই দোকানে বিক্রি করেছিলো।
জুয়েলার্সের গ্রেফতারকৃত ম্যানেজার ও কর্মচারী জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা তাদের দোকানের মালিক হারুনের উপস্থিতিতে দু বারে মোট ৪০ ভরি সোনার গয়না কেনে। পরে দোকান মালিকের নির্দেশে ওই সোনার গয়না গলিয়ে নতুন গয়না বানিয়ে বিক্রির জন্য দোকানে প্রদর্শন করে রাখে। তাদের দেখানো ও স্বীকারোক্তি মতে, চোরাইকৃত ৪০ ভরি সোনার গয়না গলিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন ধরনের গয়না উদ্ধার করে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ করা হয়।
এডিসি মসিউর আরও জানান, শিউলি প্রতি মাসে দু-একটি চুরি কাজের জন্য ঢাকায় আসে। কাজ শেষে আবার গ্রামে ফিরে যায়। শিউলি গৃহকর্মী হিসেবে বাসা-বাড়িতে কাজে যোগদানের পর ওই বাসার ও আলমারির চাবি তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী তারিফের কাছে পাচার করে ডুপ্লিকেট চাবি তৈরি করায়। পরে বাসার মালিক যখন বাসায় তালা মেরে বাইরে চলে যান তখন শিউলী তার কাছে গোপনে সংরক্ষিত মোবাইলফোন দিয়ে তার সাবেক স্বামী তারিফকে আসতে বলে। তারিফ ও শিউলী দুজন মিলে বাসা থেকে সোনার গয়না ও মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত শিউলী জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানায়, ঢাকা শহরের ১৫/১৬টি বাড়িতে কাজের বুয়া হিসেবে সোনার গয়না ও নগদ টাকা-পয়সা চুরি করেছে এবং এর আগে পল্লবী থানার একটি মামলায় ৬ মাস জেল খেটেছিলো। এর আগে সে পল্লবী থানাধীন আওয়ামী লীগ নেত্রী রীনার বাসা থেকে ৫৬ ভরি সোনার গয়না, কাজীপাড়ার ফয়সালদের বাসা থেকে ফয়সালের মাকে চায়ের সাথে কীটনাশক মিশিয়ে খাইয়ে অজ্ঞান করে ৫৫ ভরি সোনার গয়না এবং অন্য ভিকটিমদের বাসা থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ৭০০ ভরি সোনার গয়না এবং ১০/১২ লাখ নগদ টাকা চুরি করেছে বলে জানায়।
|
|