|
|
ঈদের আগেই ভেঙে পড়েছে ট্রেনের সিডিউল
স্টাফ রিপোর্টার: ট্রেন যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে ঈদেও চলছে গড়িমসি। পকেটমার, ছিনতাইকারী, গামছাপার্টি ও মলমপার্টির কবলে পড়ে সর্বস্ব হারালেও নতুন করে মৃত্যুর ভয় যাত্রীদের আতঙ্কিত করে তুলছে। গত ১ মাসে প্রায় ৪৭টি লাশ পাওয়া গেছে ঢাকা-জয়দেবপুর লাইনে। ধারণা করা হচ্ছে, একটি শক্তিশালী অপরাধচক্র দিনের পর দিন ট্রেনে ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, পকেটমারসহ নানান অপকর্ম করে যাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে এ চক্রের ৯ সদস্যকে রেলওয়ে ঢাকা জিআরপি পুলিশ গ্রেফতার করলেও তাদের অপতৎপরতা কমেনি ফলে যাত্রীদের আতঙ্ক যেমন কাটছে না তেমনি, সময়মতো ছাড়ছে না কোন ট্রেনও। একদিকে দুর্ভোগ অন্যদিকে আতঙ্ক। গতকাল রোববার সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করতে গিয়ে যোগাযোগ ও রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে জিআরপি, নিরাপত্তাবাহিনীর প্রধানদের দায়িত্ব অবহেলার জন্য তুলোধুনা করেন।
এদিকে ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ট্রেনের সিডিউল ভেঙে পড়ছে। গতকাল রোববার অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট, ঢাকা মেল ৩ ঘণ্টা, চট্টলা এক্সপ্রেস সাড়ে ৩ ঘণ্টা, যমুনা এক্সপ্রেস ৩ ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর স্টেশন ছেড়েছে। এদিকে কমলাপুর স্টেশনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তৎপর থাকলেও স্টেশন চত্বরে যাত্রী বেশে কালোবাজারিরা চড়া দামে টিকেট বিক্রি করছে। চট্টগ্রামগামী বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি ২ দিন লাইনে দাঁড়িয়েও সুবর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট পাননি। অবশেষে এক কালোবাজারির কাছ থেকে ১৭ আগস্টের ২টি টিকেট ২ হাজার টাকা বেশি দিয়ে ক্রয় করেছেন। রেলওয়ের নিরাপত্তাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ৬/৭ জন কালোবাজারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কালোবাজারিরা নকল টিকেটও বিক্রি করছে। নকল টিকেট বিক্রিকালে ৬টি নকল টিকেটসহ একজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। অপরদিকে রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের বিড়ম্বনার কথা চিন্তা করে ১৫০টি বগি ও ১০ ইঞ্জিন মেরামত করে সংযোগ করা হয়েছে। অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী মিজানুর রহমান জানান, চলতি টিকেটই কেটেছেন প্রায় ৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে। এতো কষ্টে কেনা টিকেট দিয়ে ভ্রমণ করতে এসে আবার ভোগান্তি পোয়াতে হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে আন্তঃনগর, মেল ও লোকাল ট্রেনে প্রতিদিন ৩৪ হাজার ৯৫০টি আসনের টিকেট বিক্রি করা হয়েছে; কিন্তু ঈদ সার্ভিসের আগেই এখন প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করছে। প্রায় ৪ গুণ বেশি যাত্রী চলাচল করছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে যোগাযোগমন্ত্রী: গতকাল রোববার দুপুরে যোগাযোগ ও রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শন করেছেন। এ সময় যাত্রীদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তাদের নানা অভিযোগও শুনেছেন। বিভিন্ন ট্রেন বিলম্বে চলছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মন্ত্রী বলেন, ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের সময়সূচি রক্ষা করা কঠিন। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এদিকে মন্ত্রীর স্টেশন পরিদর্শনকালে শ শ যাত্রী ট্রেনের অপেক্ষা করছিলো। মন্ত্রী দুপুর ১টায় রেলওয়ে ভিআইপি রুমে সাংবাদিকদের জানান, তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কতোটুকু পারছেন তা জনগণই ভালো জানেন। গত ১ মাসে ঢাকা-জয়দেবপুর লাইনে ৪৭টি লাশ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত আতঙ্কজনক। তিনি রেলওয়ে ডিআইজি, জিআরপি, ওসি ও নিরাপত্তাবাহিনীর কমান্ড্যান্ডকে দায়িত্ব অবহেলার কারণে তুলোধুনো করেন। লাইনের ওপর লাশ পাওয়ার বিষয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনী সদস্যদের দিয়ে ২টি তদন্ত কমিটি করেছেন বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, রেলওয়েতে সেবা বাড়াতে হলে নিয়োগের বিকল্প নেই। রোজার শেষে আরও নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। মামলার জন্য যেসব নিয়োগ স্থগিত রয়েছে তা অচিরেই সমাধান হবে। এর আগে মন্ত্রী কমলাপুর বাস ডিপো পরিদর্শন করেন। ওই সময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, হাইওয়ের যেখানে সমস্যা হচ্ছে সাথে সাথে তা মেরামত করা হচ্ছে।
|
|