|
|
পরীক্ষা ছাড়াই এবার মেডিকেলে ভর্তি
স্টাফ রিপোর্টার: পরীক্ষা ছাড়াই ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস এবং বিডিএস কোর্সে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এ ভর্তি হবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনের জন্য ওই দু পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ-৮ থাকতে হবে। জিপিএ-৭ প্রাপ্ত বিদেশি শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
গতকাল রোববার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ভর্তি-প্রক্রিয়া নীতিমালা প্রণয়ন সম্পর্কিত সভায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা এবং একাধিক সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত সপ্তায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভায় ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষরা। সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় যারা ভালো করেছে তাদের আর নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার দরকার নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ অবস্থানের পক্ষে একমত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও। এতে কোচিং-বাণিজ্যের রাশ টেনে ধরা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, গত বছর যারা জিপিএ-৮ পেয়েও মেডিকেলে ভর্তি হতে পারেনি তারা এবারও আবেদন করতে পারবে। এ বিষয়ে শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি জারি করে সবাইকে তা জানানো হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারি কলেজগুলোতে এমবিবিএস কোর্সে আসনসংখ্যা ২ হাজার ৮১২টি এবং বিডিএস কোর্সে ৫৭৮টি। বেসরকারি কলেজগুলোতে এ সংখ্যা যথাক্রমে ৪ হাজার ২৭৫টি ও ৮৫০টি। এই প্রথম পরীক্ষা ছাড়াই মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবে শিক্ষার্থীরা। সাংবাদিকরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এ ক্ষেত্রে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের গুণগতমানের কোনো হেরফের হবে কি-না। উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। কারণ, যারা ভালো তারাই তো মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ভালো করেছে। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহউপাচার্য রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধাবীরা ভালো করেছে; কিন্তু তারা মেডিকেলে পড়ার উপযুক্ত কি-না তা দেখার সুযোগ রইলো না। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা না নিয়ে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করানো যথাযথ হবে কি-না সে বিষয়ে আমার সংশয় আছে। শুধু মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করানো হলে ঢাকাসহ বড়বড় শহরের হাতে গোনা কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পাবে। এমন আশঙ্কার ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব শারফুদ্দীন আহমেদ বলেন, বিষয়টি সভায় আলোচিত হয়েছে। বর্তমানে জেলা কোটায় ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত আছে। আসন বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা যায় কি-না সেই চেষ্টাও আছে।
গতকালের সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা না রাখার ব্যাপারে সভায় দীর্ঘ আলোচনা হয়। কেউ কেউ একটি আসনের বিপরীতে তিনজন প্রার্থী রেখে তাদের মধ্যে পরীক্ষা নেয়ারও প্রস্তাব করেছিলেন। তবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বড় অংশটি ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করানোকে সহজ ও ঝামেলামুক্ত মনে করেছেন। এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মেডিকেলে ভর্তির সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর পাঠকদের অনেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকে বলেছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত অনেক আগেই দেশবাসীকে জানানো উচিত ছিলো। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে পরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছে, অনেকে কোচিং সেন্টারে গিয়ে অর্থ খরচ করেছে। তবে অনেকেই বলেছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে ভূমিকা রাখবে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লা জানান, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বিকেলে কুমিল্লায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। বিকেলে শহরের কান্দিরপাড়ে ওই মানববন্ধন হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানান।
|
|