|
|
চুয়াডাঙ্গা মোমিনপুর রেলস্টেশনের পোটার নুরজাহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ  সদরুল নিপুল: চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের মোমিনপুর রেলস্টেশনের পোটার পদে নিযুক্ত নুরজাহান আরা মাসে একদিন হাজিরা দিয়েই পুরো মাসের বেতন তুলছেন। গত ১ বছর ৩ মাস ধরে তিনি এভাবেই অফিসের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। কাগজকলমে প্রতিদিনের স্বাক্ষর থাকলেও কোনোদিন অফিসে পাওয়া যায় না। স্থানীয়দের জোরালো অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল দুপুরে সরেজমিনে মোমিনপুর রেলস্টেশন অফিসে গেলে অভিযোগের সত্যতা মেলে। অপরদিকে স্টেশন মাস্টার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিমাসের বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেলের টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, মোমিনপুর রেলস্টেশনে গত বছরের ২৫ মে পোটার নুরজাহান আরা যোগদান করেন। ২৫ মে যোগদান করার পর থেকে নুরজাহান আরা প্রতিমাসে একবার তার কর্মস্থল মোমিনপুর রেলস্টেশনে অফিসে এসে হাজিরা খাতায় এক মাসের স্বাক্ষর করে তার নিজ বাড়ি পাকশীতে চলে যান। বাড়িতে বসেই তিনি প্রতি মাসের বেতন তুলছেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্টেশনের একজন স্টাফ জানান, পোটার নুরজাহান আরা স্টেশন মাস্টারের যোগসাজোশে সে দীর্ঘ এক বছর তিন মাস ধরে অফিস না করেও প্রতিমাসের বেতন তুলছেন। তিনি মাসে একবার এসে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর করে যান। বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হলে স্থানীয় জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে। স্থানীয় জনগণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল দুপুরে মোমিনপুর রেলস্টেশনের অফিসে গিয়ে হাজিরা খাতা দেখে অভিযোগের সত্যতা মেলে। হাজিরা খাতায় দেখা গেছে, নুরজাহান আরার স্বাক্ষর। হাজিরা খাতায় নুরজাহান আরার নিজ স্বাক্ষরের পাশাপাশি অনেক পৃষ্ঠায় বেশ কিছু জায়গায় নুরজাহান আরার স্বাক্ষর জাল করা। এলাকাবাসীর ধারণা নুরজাহান আরা যে কয়েকমাস আসতে পারেনি তার স্বাক্ষর স্টেশনের কর্মরত কেউ জাল করেছে। উদ্দেশ্য একটায় গোপনে তার সাথে টাকার বিনিময়ে স্বাক্ষর জাল করে নুরজাহান আরাকে বিপদমুক্ত রাখছে।
অপরদিকে মোমিপনুর রেলস্টেশন মাস্টার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বরাদ্দকৃত প্রতিমাসের জ্বালানি তেলের টাকা আত্মাসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় জনগণ। অভিযোগকারীরা বলেন, স্টেশনের বিভিন্ন ল্যাম্পবাতি জ্বালোনের জন্য প্রতিমাসে তেল কেনার যে টাকা দেয়া হয় সেই টাকা স্টেশন মাস্টার নজরুল ইসলাম তার নিজ পকেটে ভরেন। বিদ্যুত চলে গেলে স্টেশনের কোনো বাতি দীর্ঘদিন থেকে জ্বালানো হয় না। স্টেশনের অফিসরুমে শুধু বিদ্যুতের আলোর ব্যবস্থা আছে; কিন্তু স্টেশনের প্লাটফর্মের কোনো পোলেই দীর্ঘদিন থেকে আলোর ব্যবস্থা নেই। প্লাটফর্মে অন্ধকার থাকায় ট্রেন যাত্রীরা বিভিন্ন কারণে আতঙ্কে থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ট্রেনযাত্রীদের অভিযোগ স্টেশনে বাথরুম নেই, টিউবওয়েলের সমস্যা। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, টেলিফোনের সংযোগ ঠিক থাকলেও স্টেশন মাস্টার অফিসে প্রতিদিন ঠিক মতো না থাকায় ট্রেনের খবর জানা সম্ভব হয় না। যার কারণে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্টেশন মাস্টার নজরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি পোটার নুরজাহান আরার বিষয়টি এবং তার বিরুদ্ধে জ্বালানি তেলের টাকা আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। এলাকার সচেতনমহল পোটার নুরজাহান আরা ও স্টেশন মাস্টার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত স্বাপেক্ষে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন।
|
|