চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের মুখপত্র
  
 চুয়াডাঙ্গা, বৃহস্পতিবার, ০৯ আগস্ট ২০১২ সাল   
 
 আজকের পত্রিকা  প্রথম পাতা  শেষের পাতা  অন্যান্য পাতা  সম্পাদকীয়  Contact us  History of Chuadanga 
  আজকের সর্বশেষ সংবাদ      ¤ আজ শুভজন্মাষ্টমী ¤  ¤ মিঞা মো. মনসুর আলী ¤  ¤ মীর্জা সুলতান রাজা ¤  ¤ শায়খুল হাদিসের ইন্তেকাল ¤  ¤ গ্রহবাসীরা কি মঙ্গলেই, না অন্য কোথাও? ¤ 
 আজ পাঠক সংখ্যাঃ ১৯৭৯ জন 
 এই পর্যন্ত পাঠক সংখ্যাঃ ৯৬৫৯৮০১ জন 
 
 পুরানো সংখ্যা 
 

 
Zaman Group Click here
 
  
  
 
click here
 
  
 গ্রহবাসীরা কি মঙ্গলেই, না অন্য কোথাও? 


মাথাভাঙ্গা মনিটর: পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহবাসীর অতিথি হিসেবে মঙ্গলের মাটিতে অবতরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার বিজ্ঞানীদের পাঠানো কিউরিওসিটি যানটি। মঙ্গলে যদি বুদ্ধিমান কোনো প্রাণী থাকে বা ক্ষুদ্র কোনো প্রাণীর অস্তিত্বও কিউরিওসিটি খুঁজে পায়, তবে তার সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলবে। তবে তার আগে কিউরিওসিটিকে খুঁজে বের করতে হবে আদৌ তারা আছে কি-না, নাকি তারা কোনো লুকোচুরি খেলছে। মঙ্গলের গেইল কার্টারে দু বছর ধরে অণুজীবের সন্ধান করবে কিউরিওসিটি। কিন্তু মঙ্গলের মাটিতে প্রাণের কোনো অস্তিত্ব আদৌ আছে কি-না, তা নিয়ে গবেষকদের মনে সংশয় রয়ে গেছে। ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
৬ আগস্ট সোমবার বাংলাদেশ বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে মঙ্গলের মাটিতে অবতরণ করার পর মঙ্গলবাসীদের খোঁজে কাজ শুরু করেছে কিউরিওসিটি। কাজের প্রথমদিনেই রঙিন ছবি তুলে পাঠিয়েছে কিউরিওসিটি। শিগগিরই শুরু করবে মঙ্গলের মাটি বিশ্লেষণের কাজ। গেইল কার্টারে অতীতে পানির অস্তিত্ব ছিলো বলে মনে করেন গবেষকেরা। আর পানির অস্তিত্ব মানেই সেখানে প্রাণের সম্ভাবনা। কিউরিওসিটি গেইল কার্টারের তলা থেকে তাদের খোঁজে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে উঠতে থাকবে। এ প্রতিকূল পরিবেশে কিউরিওসিটির কল্যাণেই হয়তো আমাদের গ্রহের বাইরে একটা আলাদা আবাসস্থল গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন গবেষকেরা। ২০২৩ সাল নাগাদ মঙ্গলে বসবাসের পরিকল্পনাও করে রেখেছেন তারা। গবেষকেরা আশা করছেন, মঙ্গলে প্রাণের উপযোগী কোনো পরিবেশ বা মঙ্গলবাসী কোনো প্রাণীর থাকার সম্ভাবনা জানাতে পারবে কিউরিওসিটি। তবে গবেষকেরা বলছেন, তাদের তাড়াহুড়ো নেই মোটেও। দু বছরের অভিযান-পরিকল্পনা যদি ৪ বছরও পার করে যায়, তাতেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। তাদের শুধু একটা প্রশ্নের উত্তর দরকার, কেউ কী আছে মঙ্গলে?
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা ১৯৭৬ সালে ভাইকিং প্রোগ্রামের আওতায় মঙ্গলের মাটিতে ভাইকিং ১ ও ভাইকিং ২ সফলভাবে অবতরণ করিয়েছিলেন। এ দুটি যান মঙ্গল পৃষ্ঠের রঙিন ছবি পৃথিবীতে রিলে করে পাঠিয়েছিলো। ভাইকিং অবতরণের ৩ যুগ পরে এসে কিউরিওসিটি যখন প্রাণের খোঁজ শুরু করেছে, তখনো বিজ্ঞানীরা ভিনগ্রহের প্রাণীর খোঁজ পাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত নন। ভাইকিংয়ের অভিযানের সময় মঙ্গলে কোনো প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধান পাননি গবেষকেরা। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য অভিযানেও তারা আশার কথা শোনাতে পারেননি, তবে কী মঙ্গলে প্রাণ নেই? মঙ্গলের জীবনধারণের প্রতিকূল পরিবেশ এখানে প্রাণের খোঁজ পাওয়ার সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করেছে। পৃথিবীর কুমেরুর চেয়ে শীতল তাপমাত্রা, পাতলা বায়ুমণ্ডল, সৌরবিকিরণ আর মরুভূমির চেয়েও শুষ্ক মঙ্গলের মাটিতে প্রাণের উদ্ভব নিয়ে সংশয় থাকলেও গবেষকেরা বিশ্বাস করেন লাল গ্রহটি অতীতে এতটা অনুর্বর ছিলো না। মঙ্গলের অন্যান্য অভিযাত্রা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, অতীতে বর্তমান সময়ের চেয়ে মঙ্গল গ্রহটি অনেক বেশি আর্দ্র ছিলো, পানির অস্তিত্ব ছিলো।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, জীবনের জন্য পানিকে খুবই প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। মঙ্গলের গঠনের কারণেই ভূপৃষ্ঠের সামান্য নিচেই পানির অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এখানেই প্রাণের উদ্ভব ঘটা সম্ভব। আদি প্রাণের শুরুর জন্য যে রসায়ন প্রয়োজন, তা এ পরিবেশে সহজেই তৈরি সম্ভব হতে পারে। গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, পৃথিবীতে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর আগে জীবিত ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব ছিলো। পৃথিবীর আদি পর্বের এ সময়টাতে পৃথিবী ছিলো যথেষ্ট প্রতিকূল, শীতল আর বরফের আস্তরণে মোড়া। এরপর শ শ বছর ধরে উল্কাপাত ঘটে পৃথিবীতে। তারপরও টিকে ছিলো তারা। পৃথিবীতে ১৯৮০ সালের দিকে এক্সট্রেমোফাইলস নামের ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান গবেষকেরা। এ ব্যাকটেরিয়া তাপ, চাপ, তেজস্ক্রিয়তা বা পৃথিবীর সব প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকতে পারে। গবেষকেরা আশা করছেন, মঙ্গলের মাটির নিচেও হয়তো এ ধরনের কোনো ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান তারা পাবেন।
এক্সট্রেমোফাইলস ব্যাকটেরিয়ার কোনো অস্তিত্ব পেলে কিউরিওসিটি তা খুঁজে বের করতে কাজ করবে। লেজার দিয়ে পাথরের কোনো টুকরাকে বাষ্পে পরিণত করে তা বিশ্লেষণ করবে। এছাড়া মাটিতে গর্ত করে সেখানকার রাসায়নিক বিশ্লেষণও করবে। বায়ুমণ্ডলে মিথেনের স্তরের পার্থক্য নিয়ে পরীক্ষাও চালাবে। মঙ্গল গ্রহে যদি কোনো প্রাণী না মেলে, তবে কী কিউরিওসটিরি অভিযান ব্যর্থ? গবেষকেরা কিউরিওসিটির অভিযানকে কোনোভাবেই বিফল মনে করবেন না। যদি মঙ্গল গ্রহে বর্তমানে কোনো প্রাণের সন্ধান পাওয়া না যায়, তবে অতীতে প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা খুঁজে দেখবে কিউরিওসিটি। মঙ্গলে এলিয়েন বা ভিনগ্রহের কোনো প্রাণীর সন্ধান না পেলেও এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবেন শনির চাঁদ এনসেলাডাস গবেষণার ক্ষেত্রে।
গবেষকেরা ধারণা করেন, এনসেলাডাস উপগ্রহটির ভূপৃষ্ঠের নিচে যে সমুদ্র রয়েছে, তাতে ভরপুর রয়েছে জৈব যৌগ। গবেষকেরা জানিয়েছেন, নক্ষত্র থেকে উপযুক্ত দূরত্বে থাকলেই সেখানে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ থাকবে এমনটা নয়; সেখানে প্রাণের উদ্ভব ঘটতে হলে অনুকূল পরিবেশ চাই। এ বছরের ২৮ জুলাই কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের থেকে নেয়া বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে নাসা। ওই তথ্য অনুসারে, ভিনগ্রহবাসীদের খোঁজ কেবল মঙ্গল গ্রহ বা সৌরজগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এ টেলিস্কোপটি সৌরজগতের বাইরের অন্যান্য প্রাণ উদ্ভবের উপযোগী এক্সোপ্লানেটের সন্ধান করছে। আর কেপলারের তথ্য অনুসারে পৃথিবী সাদৃশ্যের দেড় লাখের কাছাকাছি গ্রহ মিল্কিওয়ে ছায়াপথের নক্ষত্রপুঞ্জেই রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এসইটিআই ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্বিদ সেথ সসটাক ২০১১ সালে জানিয়েছিলেন, পৃথিবী থেকে ১ হাজার আলোকবর্ষ দূরত্ব হিসাব করলে ৩০ হাজারেরও বেশি পৃথিবীসদৃশ গ্রহের দেখা মিলবে। নাসার গবেষক ওয়েসলি ট্রাউবের মতে, সূর্যের মতো ৩৪ শতাংশ নক্ষত্রের ক্ষেত্রেই বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। পৃথিবীসদৃশ এ গ্রহগুলো পর্যবেক্ষণ চলছে। গবেষকেরা আশা করছেন, মঙ্গলে না হলে হয়তো এতোগুলো পৃথিবীসদৃশ গ্রহের কোনো না-কোনোটিতে পাওয়া যাবে ভিনগ্রহবাসীদের। পৃথিবীবাসীও অধীর আগ্রহে দ্বিতীয় কোনো আবাসস্থল বা ভালো বন্ধুর প্রত্যাশায় রয়েছে।


 অনলাইন জরিপ 
 দৈনিক মাথাভাঙ্গা’র ওয়েব ঠিকানা www.mathabhanga.com সকলকে জানান। মাথাভাঙ্গার ইন্টারনেট সংস্করণ অব্যাহত রাখতে পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করুন। .................. ................................. ................................. চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের উন্নয়নে অন্যতম অন্তরায় বিদ্যুত। এ মন্তব্য সমর্থন করেন কি?  
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই
 এই জরিপ বন্ধ আছে। 
 ভোট দিয়েছেন ২৮২৫২ জন 

  
 
০৭৬১-৬৩৭৪৭, ০১৭১১৩৮৩৩০৩ 
 
পরীক্ষার ফলাফলের জন্য এখানে ক্লিক করুন