|
|
গৃহশিক্ষকের কাছে আমার মতো কোনো ছাত্রী যেন প্রতারিত না হয়
শিগগিরই মদনার আমিনুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
মদনা থেকে ফিরে আলম আশরাফ: প্রতারণার শিকার দামুড়হুদা মদনা গ্রামের কলেজছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা লোকমোর্চার একটি টিম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে মদনা গ্রাম। গত ৪ আগস্ট লোকমোর্চার টিমের কাছে এক পর্যায়ে অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমিনুল ইসলাম অকপটে স্বীকার করেন তার অপকর্মের কথা। এ বিষয়ে লোকমোর্চা আরেক দফা তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের মদনা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত ফকির মোহাম্মদের ছেলে একই উপজেলার জয়রামপুর ডিএস দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক। এ ছাড়া এলাকায় প্রাইভেট শিক্ষক হিসেবে তার বেশ যশ আছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি অনেক ছাত্রীর সর্বনাশ করেছেন। এরকমই অভিযোগ করেছেন একই পাড়ার তার এক সময়ের প্রাইভেট ছাত্রী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দৈনিক মাথাভাঙ্গায় সংবাদ প্রকাশিত হলে শিক্ষকের মুখোশ খুলে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে প্রতারিত কলেজছাত্রী। সে গত ৩০ জুলাই জেলা লোকমোর্চার সভাপতি বরাবর অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে। দরখাস্তে সে জানায়, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে লম্পট শিক্ষক আমিনুল ইসলাম দীর্ঘ ৪ বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। মোবাইলে দিয়েছেন আপত্তিকর অশ্লীল এসএমএস, ও অশ্লীল কথাবার্তার অনেক চিঠিপত্র। এ ছাড়া বাইরে থেকে বিয়ে এলেও তিনি বারবার ভেঙে দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৪ আগস্ট জেলা লোকমোর্চার ৮ সদস্যের একটি টিম মদনা গ্রামে সরেজমিন পরিদর্শনে যায়। আলাদা আলাদাভাবে অভিযোগকারী কলেজছাত্রী ও অভিযুক্ত শিক্ষকের কথা শোনেন লোকমোর্চার নেতৃবৃন্দ। অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুল ইসলাম প্রথমে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সব মিথ্যা দাবি করলেও লোকমোর্চার নেতৃবৃন্দের প্রশ্নের মুখে এক পর্যায়ে অভিযোগ সব স্বীকার করেন বলে লোকমোর্চা মাথাভাঙ্গাকে জানায়।
প্রতারিত কলেজছাত্রী লোকমোর্চার নেতৃবৃন্দের সামনে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, প্রাইভেট শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আমার মতো অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছেন। আমি চাই তার এমন শাস্তি হোক, আর যেন কোনো গৃহশিক্ষকের কাছে কোনো ছাত্রী প্রতারণার শিকার না হয়। লোকমোর্চার নেতৃবৃন্দের কাছে গ্রামের সাধারণ মানুষও শিক্ষক আমিনুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুকর্মের অভিযোগ করেন বলে লোকমোর্চার নেতৃবৃন্দ জানান। পরিদর্শন টিমে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা লোকমোর্চার সভাপতি অ্যাড. আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক কোহিনুর বেগম, প্রচার সম্পাদক শাহিন সুলতানা মিলি, নির্বাহী সদস্য লিটু বিশ্বাস, জুলিয়াস আহমেদ মিল্টু ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা লোকমোর্চার সভাপতি শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস।
এ বিষয়ে গতরাতে চুয়াডাঙ্গা জেলা লোকমোর্চার সভাপতি অ্যাড. আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, মদনার কলেজছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে লোকমোর্চা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। তাতে অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে আরেক দফা তদন্ত শেষে অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
|
|