চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের মুখপত্র
  
 চুয়াডাঙ্গা, শুক্রবার, ০৩ আগস্ট ২০১২ সাল   
 
 আজকের পত্রিকা  প্রথম পাতা  শেষের পাতা  অন্যান্য পাতা  সম্পাদকীয়  Contact us  History of Chuadanga 
  আজকের সর্বশেষ সংবাদ      ¤ বাবার কাছে লেখা নুহাশের শেষ চিঠি ¤  ¤ ভাগিয়ে নেয়া পরস্ত্রীর সামনেই ত্রাস লিটনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন ¤  ¤ দুর্ঘটনা : ভুলটিয়ার রমজান নিহত ¤  ¤ এ সিদ্ধান্তে দেশের গর্বের ব্যাংকটি ধ্বংস হবে : ড. মুহাম্মদ ইউনূস ¤  ¤ চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতালের ওষুধ চুরিরোধে তিন সদস্যের একটি সাবস্টোর অনুসন্ধান দল গঠন ¤  ¤ ঝিনাইদহে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১৩ ¤ 
 আজ পাঠক সংখ্যাঃ ১৮২২ জন 
 এই পর্যন্ত পাঠক সংখ্যাঃ ৯৭৭২৫৭৫ জন 
 
 পুরানো সংখ্যা 
 

  
  
  
 পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৫ ছাত্র গুলিবিদ্ধ : প্রতিবাদে ভাঙচুর সড়ক অবরোধ : সহিংসতা ঠেকাতে জাবি বন্ধ ঘোষণা 

 
স্টাফ রিপোর্টার: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় গত বুধবার গভীর রাতে মীর মশাররফ হোসেন হলের এক ছাত্রকে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশের সাথে ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ৫ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় রাতেই বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। গতকাল বৃহস্পতিবারও দিনভর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা। পরে সহিংসতা ঠেকাতে দুপুরে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ঈদের ছুটি এক সপ্তাহ এগিয়ে এনে আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ছাত্রদের এবং আজ শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ছাত্রলীগ কর্মী তাহমিদুল ইসলাম লিখনকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। পরে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা তাকে মেডিকেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনার জের ধরে রাত ১২টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাদেকুল ইসলাম নাহিদকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক করতে গেলে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করলে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে ফার্মেসি বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের ছাত্র রাকিব, পরিসংখ্যান বিভাগের ৪০তম ব্যাচের ছাত্র বশির, ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের ছাত্র মারুফ, গণিত বিভাগের ৪১তম ব্যাচের রবিন ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের ছাত্র নাহিদ গুলিবিদ্ধ হন। আহত ছাত্রদের রাতেই সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়।
রাতভর সড়ক অবরোধ: ৫ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা লাঠি নিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় রাস্তায় উভয়পাশে শ শ গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। শিক্ষার্থীরা এ সময় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এক সাংবাদিক আন্দোলনের ছবি তুলতে গেলে তার ক্যামেরা ভেঙে ফেলে তারা। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক নাসির উদ্দীন ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে গেলে তোপের মুখে তারা সেখান থেকে ফিরে আসেন। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি মাইক্রোবাস ও পুলিশের ৩টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বেশকিছু যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
শিক্ষার্থীদের ৮ দফা: এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি গুলির প্রতিবাদ এবং এর বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ৮ দফা দাবি পেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ, পুরো ঘটনার জন্য ভিসির দায়ভার স্বীকার করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, ছাত্রদের অধিকার রক্ষা ও আহতদের চিকিত্সা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা।
দিনভর বিক্ষোভ, সংঘর্ষ: রাতের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা দিনভর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্টের বাসভবন, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, জহির রায়হান মিলনায়তন, নতুন ও পুরাতন রেজিস্ট্রার বিল্ডিঙে ভাঙচুর চালায়। সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা মীর মশাররফ হোসেন হলের গেট থেকে মিছিল বের করে। বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেট এলাকায় পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ তেড়ে আসে। জল কামান নিয়ে পুলিশ প্রান্তিক গেট থেকে শিক্ষার্থীদের পাল্টা ধাওয়া দেয়। আধাঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পরে শিক্ষার্থীরা পিছু হটে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনের সামনে এসে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা শিক্ষক কোয়ার্টারে অবস্থানরত পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে প্রান্তিক গেট দিয়ে বাইরে চলে যায়। এ সময় সাব ইন্সপেক্টর বিল্লাল হোসেন মারাত্মক আহত হন। এসব ঘটনার ছবি তুলতে গেলে সময় টিভির সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যান এবং ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক হিমেল মারাত্মকভাবে আহত হন।
হল ছাড়ার নির্দেশ: বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের বাসায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা বসে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিন্ডিকেটের একটি প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানায়। সিন্ডিকেটের প্রতিনিধি দল তাদের কথা শুনে আবার সিন্ডিকেট অধিবেশনে যোগ দেন। বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ছাত্র এবং আজ শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগ করতে হবে। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটি আগামী ৯ আগস্ট থেকে এগিয়ে এনে গতকাল থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ২৫ আগস্ট খুলবে।
এদিকে হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে পুলিশের প্রতি প্রশাসনের কোনো নির্দেশনা ছিলো না বলে দাবি করেছেন ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। তবে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীদের হামলা থেকে আত্মরক্ষার জন্যই পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। ক্যাম্পাসে অবস্থান ও শিক্ষার্থী আটকের ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুমতি ছিলো বলে তিনি দাবি করেন।
ডীন নির্বাচন স্থগিত: এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পূর্বনির্ধারিত ডীন নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
আন্দোলনের নেপথ্যে: বুধবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থী তাহমিদুল ইসলাম লিখন (অর্থনীতি-৩৬তম ব্যাচ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। তিনি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মী হওয়ায় দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন। অধ্যাপক শরীফের পদত্যাগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পটপরিবর্তনের পর গত ৮ জুলাই ১৩ নেতাকর্মী নিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। গত বুধবার ছাত্রলীগের কর্মী জুবায়ের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে লিখনের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে ছাত্রলীগের একটি অংশ। ক্যাম্পাসে অবস্থানকারী ছাত্রলীগের অপর অংশ এ হামলার নেপথ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম শাফিন বলেন, ছাত্রলীগের মূল ধারার কর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করবার জন্যই এ হামলা চালানো হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সিন্ডিকেট অনেক চেষ্টা করেও পরিস্থিতি শান্ত করতে পারেনি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ঈদের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে।
লিখনের মায়ের মামলা: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বুধবার সংঘটিত ঘটনায় মামলা করেছেন আহত ছাত্রলীগ কর্মী তাহমিদুল ইসলাম লিখনের মা কাজী জহুরা বেগম। গতকাল সাভার থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে তিনি মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় রিয়াজ (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ-৩৬তম ব্যাচ), লিটন (৩৫ ব্যাচ, অর্থনীতি), মনোয়ার হোসেন (ভূগোল ও পরিবেশ-৩৬তম ব্যাচ), তীলন (লোক প্রশাসন বিভাগ-৩৭ ব্যাচ), তানভীর (লোক প্রশাসন বিভাগ-৩৭তম ব্যাচ), সাগর (অর্থনীতি বিভাগ-৩৯ ব্যাচ), শামীম (ইতিহাস-৩৯ ব্যাচ), সাদেকুল ইসলাম নাহিদ (নৃবিজ্ঞান বিভাগ-৩৯ ও আব্দুল কাইয়ুম বিপুল ইংরেজি বিভাগ-৩৮) আসামি করা হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা গতকাল ক্যাম্পাস ছাড়তে গিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হন। রাস্তায় কোনো ধরনের যানবাহন না থাকায় অকেকেই হেঁটে সাভার এলাকায় আসেন বলে জানা গেছে।


 অনলাইন জরিপ 
 দৈনিক মাথাভাঙ্গা’র ওয়েব ঠিকানা www.mathabhanga.com সকলকে জানান। মাথাভাঙ্গার ইন্টারনেট সংস্করণ অব্যাহত রাখতে পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করুন। .................. ................................. ................................. চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের উন্নয়নে অন্যতম অন্তরায় বিদ্যুত। এ মন্তব্য সমর্থন করেন কি?  
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই
 এই জরিপ বন্ধ আছে। 
 ভোট দিয়েছেন ২৮২৫২ জন 

  
 
০৭৬১-৬৩৭৪৭, ০১৭১১৩৮৩৩০৩ 
 
পরীক্ষার ফলাফলের জন্য এখানে ক্লিক করুন