|
|
হরিণাকুণ্ডুতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে দু পুলিশসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত
স্টাফ রিপোর্টার: গতকাল শনিবার হরিণাকুণ্ডুতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দু পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। হরিণাকুণ্ডুতে গতকাল দিন ব্যাপি চারটি দলীয় কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মসিউর রহমানের উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। প্রথমে সকাল সাড়ে ১০টায় সদ্য গঠিত হরিণাকুণ্ডু জাতীয়তাবাদী ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তাদের সাথে একটি কর্মসূচি নির্ধারিত ছিলো। এ কর্মসূচিতে উপস্থিত সদস্যদের জন্য খাবারের আয়োজন চলছিলো হরিণাকুণ্ডু বাজারের টিন ব্যবসায়ী আব্দুল কাদেরের হল বাজারস্থ বাসভবনে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আ.লীগের কতিপয় সমথর্ক অতর্কিতভাবে আব্দুল কাদেরের বাস ভবনে রান্নারত খাবার-দাবারের হাড়ি-পাতিল ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার পরপরই ব্যবসায়ী সমিতির নব নির্বাচিত সভাপতি মতিয়ার রহমানকে একটি গ্রুপ বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে। হরিণাকুণ্ডু হাসপাতালে নেয়া হলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। আহত মতিয়ার রহমানকে আটটি সেলাই দিতে হয় বলে বিএনপি সূত্র জানায়। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এদিকে ব্যবসায়ী সমিতির মিটিং ছাড়াও জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা ও পৌর শাখার পূর্ব নির্ধারিত তিনটি মিটিং দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কর্মসূচিগুলোর প্রধান অতিথি জেলা বিএনপির সভাপতি মসিউর রহমান দলীয় কার্যলয়ে উপস্থিত হয়ে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি চালাতে থাকেন। দুপুর ২টার দিকে আবারো ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা সংঘবদ্ধ হয়ে মসিউর রহমানের হরিণাকুণ্ডুর বাসভবনে অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা করে।এ সময় মসিউর রহমান দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। হামলা প্রতিহত করার জন্য বিএনপি কর্মীরা সংঘবদ্ধ হলে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক মিনিট ইট পাটকেল ছোড়াছুড়ি চলে। এ সময় এডিশনাল এসপির নেতৃত্বে পুলিশ উভয় পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা চালায়। ইট পাটকেল ছোড়ার সময় পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত করতে গেলে হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) ইউনুস আলীসহ এক কনস্টেবল ও উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আতহ হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। সংঘর্ষের পর দলীয় কার্যালয়ে সামনে থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন চেয়ারম্যান এবং মোশারফ নামে এক কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায় বলে বিএনপি দাবি করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিএনপি সভাপতি আবুল হোসেন চেয়ারম্যানসহ ওই কর্মীকে একটি মামলায় চালানের প্রস্তুতি চলছিলো বলে একটি সুত্র জানায়। এ ঘটনার পর থেকে হরিনাকুণ্ডুতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিলো।
|
|