|
|
পদ্মা সেতু : কোম্পানি করে শেয়ার ছাড়ার পরামর্শ
স্টাফ রিপোর্টার: পুঁজিবাজারে শেয়ার ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব বলে মনে করছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এ ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগকারীর অভাব হবে না- এমনটি বলছেন ডিএসই সভাপতি রকিবুর রহমান। গতকাল শনিবার তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের জন্য সব বিকল্পই ভেবে দেখতে হবে। অর্থ সংগ্রহের সম্ভাব্য সব জায়গাকে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজার একটি বড় ক্ষেত্র হতে পারে। আমার মনে হয়, পদ্মা সেতুকে কোম্পানিতে রূপান্তর করে এর শেয়ার বাজারে ছেড়ে নির্মাণ ব্যয়ের একটা অংশ এখান থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব। সরকার দ্রুত এ অর্থ সংগ্রহ করে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে দিতে পারে।
বাজারের এ অবস্থায় অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব কী না জানতে চাওয়া হলে ডিএসই সভাপতি বলেন, সর্বস্তরের মানুষ এখানে অর্থ সহায়তা দিতে চাচ্ছে। তাই পদ্মা সেতুর শেয়ার কিনে নির্মাণ কাজে সহায়তা করে বিনিয়োগকারীরা গর্ববোধ করবেন বলে আমার বিশ্বাস। কীভাবে পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়া যায় তার একটি রূপরেখাও দিয়েছেন রকিবুর রহমান।
তিনি বলেন, অনেক কোম্পানিই অর্থ সংগ্রহের জন্য উৎপাদনে আসার আগেই বাজারে শেয়ার ছেড়ে দেয়। পদ্মা সেতুকেও এরকম কোম্পানিতে রুপান্তর করে শেয়ার ছাড়া যেতে পারে। শেয়ারের একটা অংশ প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হলে এ থেকে বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ করা যাবে।
দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বাতিল করেছে বিশ্ব ব্যাংক। ২৯০ কোটি ডলারের প্রকল্পে তারা ১২০ কোটি ডলার দেয়ার জন্য চুক্তি করেছিলো। ঋণ চুক্তি বাতিলের পর প্রধানমন্ত্রী গত ৪ জুলাই জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের রূপরেখা তুলে ধরেন। এ সময় সভরেন বন্ড থেকে ৭৫ কোটি ডলার সংগ্রহের ঘোষণা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ছাড়াও ব্যবসায়িক সংগঠন, বেসরকারি ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুতে অর্থ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।
রকিবুর রহমান বলেন, সভরেন বন্ড ছেড়ে টাকা তুলতে তা সুদে আসলে পরিশোধ করতে হবে। সেখান থেকে টাকা তুললেও ২৫ কোটি ডলারের বেশি তোলা উচিত নয়। তার মতে, এক্ষেত্রে পুঁজিবাজার আকর্ষণীয় জায়গা হতে পারে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটা কমিটি গঠন করা উচিত।
এদিকে পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকা পালন করার ব্যাপারে আশাবাদী রকিবুর রহমান। তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারের দিকে নজর দিয়েছে মনে হচ্ছে। ইতোমধ্যে পূবালি ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায় সে বিষয়ে অন্যরাও চিন্তাভাবনা করছে বলে আমার মনে হয়। আমার মনে হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকা পালন করবে।
রকিবুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের এখন সেরা সময়। তবে যারাই বিনিয়োগ করবে তাদের শেয়ার ধারণ ক্ষমতা থাকতে হবে। প্রতিদিন লেনদেনের মানসিকতা ত্যাগ করে ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। এর আগে গত জুন মাস জুড়ে দরপতনের সময় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানান তিনি।
|
|