চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের মুখপত্র
  
 চুয়াডাঙ্গা, রবিবার, ১৫ জুলাই ২০১২ সাল   
 
 আজকের পত্রিকা  প্রথম পাতা  শেষের পাতা  অন্যান্য পাতা  সম্পাদকীয়  Contact us  History of Chuadanga 
  আজকের সর্বশেষ সংবাদ      ¤ প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শিশুসন্তানকে হত্যা! ¤  ¤ মেহেরপুরে ফেরি করে ধান ভানা চলছে ¤  ¤ চালক জীবন দিয়ে বাঁচিয়ে গেলেন চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের ৪০ যাত্রীর প্রাণ ¤  ¤ ৩৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বেপাত্তা মেজবা : পাঠান ছালেহা ও তার ছেলে গ্রেফতার ¤  ¤ পদ্মা সেতু : কোম্পানি করে শেয়ার ছাড়ার পরামর্শ ¤ 
 আজ পাঠক সংখ্যাঃ ২৭৭০ জন 
 এই পর্যন্ত পাঠক সংখ্যাঃ ৯৬০৭৯৯৩ জন 
 
 পুরানো সংখ্যা 
 

 
Zaman Group Click here
 
  
  
 
click here
 
  
 তৃতীয় দিনেও উত্তাল বুয়েট অনড় আন্দোলনকারীরা 


স্টাফ রিপোর্টার: উপাচার্য (ভিসি) ও উপ-উপাচার্যের (প্রো-ভিসি) পদত্যাগের দাবিতে গত শুক্রবার তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই ধর্মঘট বন্ধ হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুজিবর রহমান জানান, এ আন্দোলনের বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁঁছাচ্ছে না। অভিযুক্তরা প্রধানমন্ত্রীকে মনগড়া তথ্য দিচ্ছেন। আর এ জন্যই সমাধান পেতেও দেরি হচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন বুয়েট উপাচার্য ড. এসএম নজরুল ইসলাম। পরে নিজ বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাথে আলোচনায় বসার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কোনো অনৈতিক দাবিতে তিনি পদত্যাগ করবেন না। গত বুধবার সকাল থেকে উপাচার্যের অফিসের সামনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীরা অবস্থান নেন। আর দুপুরে বুয়েট শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে একটি মৌন মিছিল বের করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন মুজিবর রহমান। এরপর বিকালে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বুয়েটের সব কয়টি অনুষদ, বিভাগ এবং ইন্সটিটিউটের প্রধানরা পদত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে পাঁচ জন নির্বাচিত ডিন, তিন জন ইন্সটিটিউট পরিচালক এবং ১৫ জন বিভাগীয় প্রধান রয়েছেন।
গত শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভিসি কার্যালয়ের সামনে গালিচায় বসে আড্ডায় ব্যস্ত দু শতাধিক শিক্ষার্থী। সামিয়ানা টাঙিয়ে পাশেই অবস্থান করছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। রয়েছেন প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠন বুয়েট অ্যালামনাইয়ের বেশ কয়েকজন সদস্য। পেশা ও পদবি ভিন্ন হলেও সবার মুখে একটাই দাবি ভিসি-প্রোভিসির পদত্যাগ চাই। সমাবেশের আশপাশে লাগানো হয়েছে প্রশাসনবিরোধী বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। টাঙানো হয়েছে ভিসি ও প্রো-ভিসিবিরোধী বিশাল আকৃতির ধিক্কার ব্যানার। আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বর্তমান ভিসি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বে অযোগ্যদের বসিয়েছেন। এতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক কর্মকা- ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। তাদের ব্যর্থতাই বুয়েট প্রশাসনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বুয়েট জাতীয় সম্পদ। সুতরাং এটা রক্ষার দায়িত্ব সবার। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিনতি করে বলছেন, তিনি যেনো শত ব্যস্ততার মধ্যেও বুয়েটের সুনাম সমুন্নত রক্ষায় এগিয়ে আসেন। ভিসিকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আখ্যা দিয়ে বুয়েটের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক ড. সরওয়ার জাহান বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে গুটিকয়েক শিক্ষক-কর্মকর্তার মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। সবাইকে একসাথে নিয়ে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডই তাদের আন্দোলনে নামাতে বাধ্য করেছে। তারা কেনো এ ধরনের আন্দোলনে নেমেছেন, সরকারকে সেটা বিবেচনা করতে হবে। একমাত্র পদত্যাগই তাদের আন্দোলন থেকে স্তিমিত করতে পারে।
গত শুক্রবার সকাল থেকেই আন্দোলনস্থলের পাশেই টাঙানো হয় ভিসি ও প্রো-ভিসি ধিক্কার ব্যানার। বিশাল আকৃতির ওই ব্যানারে ভিন্নভিন্ন ভাষায় ভিসি ও প্রো-ভিসিকে ধিক্কার জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ব্যানারে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, গায়ে মানে না, আপনি মোড়ল, আপনার একটু লজ্জা-শরম থাকা উচিত ছিলো, নিজে বাঁচুন-আমাদেরকেও বাঁচান, বেহায়াপনাকে নতুন মাত্রা দিলো ভিসি ও প্রো-ভিসি, গদি ধরে মারো টান ভিসি হবে হবে খান খান, অপসারণ চাই, অপসারণ ছাড়া উপায় নাই, বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান-এইবার ঘুঘু তোমার বধিব পরাণ, মীরজাফর বিখ্যাত হয়েছিলো বেইমানির জন্য, ভিসি বিখ্যাত হলেন নির্লজ্জতার জন্য, এমন বুয়েট দেখতে আমি ভর্তি হইনি, অবৈধ-নিয়োগ পদোন্নতি মানি না, দুর্নীতিকারী ভিসির অপসারণ চাই ও আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে, নতুন ভিসি দেসহ নানা ধরনের কথা।
এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে তৃতীয় দিনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগকর্মীরা। সেই সাথে হুমকিধামকিও অব্যাহত রেখেছে তারা। গত বৃহস্পতিবার রাতে দু দফায় ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার সংলগ্ন গেটে গিয়ে ছাত্রদের ধাওয়া দিয়েছে উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্রলীগকর্মী। শিক্ষার্থীরা জানায়, রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক তন্ময় আহমেদের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয়। আন্দোলনে যোগ দিলে হত্যার হুমকিও দেয় তারা। হুমকিধামকিতে অন্যান্যের মধ্যে রনক, পলাশ, সাবি্বর, বাপ্পীসহ ২৫-৩০ জনের একটি গ্রুপ অংশ নেয়। এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মিশু বিশ্বাস বলেন, ক্যাম্পাসের কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মীরা এ ধরনের হামলা চালিয়েছে। এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে কোনো নির্দেশনা নেই। এমনকি বিভিন্ন হলে হলে গিয়ে এসব উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা ছাত্রদের হুমকি দিচ্ছে। আন্দোলনে যোগ দিলে অনেককে হল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। তবে এসব হামলার দায়ভার ছাত্রলীগের নয় বলে তিনি জানান।
এদিকে ভিসি ও প্রো-ভিসি পদত্যাগ ইস্যু নিয়ে বুয়েট শিক্ষক সমিতির চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সেশনজটে পড়তে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দিন গ্রীষ্মকালীন ছুটি (৪৪ দিন) ঘোষণা করায় এ জটলা তৈরি হতে যাচ্ছে। একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসারে আগামী ১১ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ঈদুল ফিতরের ছুটি হওয়ার কথা ছিলো। এর আগেই ১ মাসের জন্য উপাচার্য গ্রীষ্মকালীন ছুটি করেন। অথচ বুয়েটের ক্যালেন্ডারে গ্রীষ্মকালীন ছুটি বলতে কিছু নেই।


 অনলাইন জরিপ 
 দৈনিক মাথাভাঙ্গা’র ওয়েব ঠিকানা www.mathabhanga.com সকলকে জানান। মাথাভাঙ্গার ইন্টারনেট সংস্করণ অব্যাহত রাখতে পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করুন। .................. ................................. ................................. চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের উন্নয়নে অন্যতম অন্তরায় বিদ্যুত। এ মন্তব্য সমর্থন করেন কি?  
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই
 এই জরিপ বন্ধ আছে। 
 ভোট দিয়েছেন ২৮২৫২ জন 

  
 
০৭৬১-৬৩৭৪৭, ০১৭১১৩৮৩৩০৩ 
 
পরীক্ষার ফলাফলের জন্য এখানে ক্লিক করুন