|
|
ইতালিকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ইউরো শিরোপা অক্ষুণ্ণ : রেকর্ড গড়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন  ক্রীড়া প্রতিবেদক: ইতালিকে ৪-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বারেরমতো ইউরো শিরোপা ঘরে তুললো বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। চূড়ান্ত পর্বে ৪ গোল! এটাও তো ইতিহাস।
ইউরো কাপের ফাইনালে ১৫ মিনিটে সিলভার গোলে এগিয়ে যায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। গোল লাইনের কাছ থেকে পেছনে ক্রস দিয়েছিলেন ফ্যাব্রিগাস। আর উড়ন্ত বলে আগুয়ান ডেভিড সিলভা জোরালো হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন। ম্যাচের ৪১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন জড়ডি আলবা। ৮৩ মিনিটে দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করেন টোরেস। ৮৮ মিনেট নিজে গোল না করে মাতাকে দিয়ে চতুর্থ গোল করান টোরেস।
ইউরো-বিশ্বকাপ-ইউরো! ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা এ তিনটি শিরোপা জিতলো স্পেন। গতকাল রোববার ইউরো ২০১২’র ফাইনালে ইতালিকে ৪-০ গোলে হারিয়ে অবিশ্বাস্য এ রেকর্ড গড়েছে ভিসেন্তে দেল বস্কর দল। ইউরোপের ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ইউরোতে এর আগে আর কোনো দল শিরোপা ধরে রাখার কৃতিত্ব দেখাতে পারেনি। কিয়েভের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে শুরুতে মাঝমাঠ দখলে রেখে আক্রমণে উঠতে থাকে দু দল। যদিও বলের দখল ও আক্রমণে মাঠে আধিপত্য বিস্তার করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরাই। ছোট-ছোট পাসের নন্দনিক ফুটবলে ইতালির রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে স্পেন। ১০ মিনিটে জাভির চিপ ইতালির ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ইউরোপ ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ১৪ মিনিটে ইতালির রক্ষণ-চক্র ভেঙে ফেলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। চমৎকার পাসে বল দেন আগুয়ান সেস ফ্যাব্রেগাসকে। স্পেনের ফলস নাইন বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিপদজনকভাবে এগিয়ে যান ইতালির গোলপোস্টের দিকে। আজ্জুরি রক্ষণের সমস্ত মনোযোগ তখন তার দিকে। ডান সাইডবার ঘেঁষে অরক্ষিত ডেভিড সিলভাকে উদ্দেশ্য করে ফ্যাব্রেগাসের চমৎকার ক্রস, দুর্দান্ত হেডে লক্ষ্যভেদ করে কোচের আস্থার জবাব দেন সিলভা। দু দলই আক্রমণে উঠতে থাকে। স্পেনের রক্ষণে ভীতি ছড়াতে থাকেন মারিও বালোতেল্লি-আন্তোনিও কাসানো জুটি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলের জন্য মরিয়া ইতালি কিছুটা ওপরে এসে খেলতে শুরু করে। ৪১ মিনিটে এর খেসারতও দিতে হয় তাদের। স্পেন গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসের লম্বা পাসের বল মাঝমাঠে পেয়ে যান জর্ডি আলবা। জাভির সাথে বল দেয়া নেয়া করে দ্রুত গতিতে প্রতিপক্ষ রক্ষণে ঢুকে পড়েন তিনি। ইতালির রক্ষণ সেনারা তখনও কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। বক্সের মধ্যে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জিয়ানলুইজি বুফনকে বোকা বানিয়ে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন আলবা। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১০ মিনিটে দু দলই একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। এর মধ্যে কয়েকটি আক্রমণ তো ছিলো দুর্দান্ত। ৪৮ মিনিটে ফ্যাব্রেগাসের একটি প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ইতালির ডিফেন্ডার বালজারাতি। দু মিনিট পর ডি নাতালির একটি শট কোনোরকমে রুখে দেন ক্যাসিয়াস। ধীরে ধীরে খেলা আবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় স্পেন। তাদের একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা হয়ে ওঠে ইতালি। ৭৫ মিনিটে সেস ফ্যাব্রেগাসের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফার্নান্দো তোরেস। নেমেই নিজের ঝলক দেখাতে শুরু করেন সুযোগ সন্ধানী এ স্ট্রাইকার। ৮৪ মিনিটে ডি রোসির ভুলে বল পেয়ে যান জাভি। নিঁখুত পাসে বল দেন তোরেসকে। নিজের গতি দিয়ে ইতালির রক্ষণকে পরাস্ত করে অসহায় বুফনের সামনে দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে স্পেনের জয় তখন অনেকটাই নিশ্চিত। এরপর হঠাত করে যেন খেলাই ভুলে যায় ইতালি। ৮৭ মিনিটে ইনিয়েস্তার বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র এক মিনিটের মাথায় গোল করে স্পেনকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন হুয়ান মাতা। গোলটির রূপকার তোরেস। শিরোপা তুলে ধরা স্পেনের জন্য তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সেমিফাইনালে পর্তুগালকে ট্রাইবেকারে হারিয়ে স্পেন ওঠে ফাইনালে। জার্মানকে ২-১ গোলে হারিয়ে চূড়ান্ত ফাইনালে ওঠে ইতালি। ইতালির পক্ষে দুটি গোল করে বদরাগি বালতেল্লি সকলের দৃষ্টি কাড়ে। গতকাল স্পেনের বিরুদ্ধে বালতেল্লি তার দলের মতোই ছিলো অসহায়।
|
|