|
|
খেলাধুলার সুষ্ঠু প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ কাম্য
তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বৃহৎ আয়োজনকে ভেস্তে দেয়ার হীনমানসিকতা পরিহার হবে কবে? খেলাধুলাতো উঠেই গেছে। যা-ও বা আছে তা-ও তো হীনমানসিকতার কারণে উবে যাওয়ার উপক্রম। অথচ যুবসমাজকে সুপথে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম।
খেলাধুলার প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে দরকার মুক্তমনের ক্রীড়া সংগঠকের পাশাপাশি খোলা মনে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আর্থিক সহযোগিতা করার আগ্রহ। বলার অবকাশ রাখে না যে, এ দুটোরই সংকট। এরপর রয়েছে খেলার মাঠে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হীনমানসিকতার বহির্প্রকাশ। খেলায় হার-জিত তো থাকবেই। খেলা পরিচালনায় অবশ্যই নিরপেক্ষতা থাকতে হবে। নিরপেক্ষ পদক্ষেপের মধ্যদিয়েই গড়ে তুলতে হবে আস্থা। তা না হলে সামান্য ত্রুটিতেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি থেকেই যায়। যেমনটি হয়েছে চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার পল্লি ঘোলদাড়িতে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা। সেই খেলায় পরিচালক তথা রেফারির পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের কারণেই বেধেছে হট্টগোল। আহত হলেও ভাগ্যিস প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দুটি গ্রামের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার মাত্রা যে পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছিলো তাতে প্রাণহানিও অমূলক ছিলো না। পত্রিকায় প্রকাশিত সচিত্র প্রতিবেদনই তার অন্যতম প্রমাণ।
খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই পরিচালকদের আস্থাশীল হতে হবে। আস্থা অর্জনের জন্যও দরকার দর্শক-সমর্থকসহ খেলোয়াড়দের ধৈর্য্য। তাতে অবশ্য যথেষ্টই ঘাটতি। তা না হলে একটি হ্যান্ডবল ধরা বা না ধরা নিয়ে তুমুল সংঘর্ষ কেন? তাছাড়া যে খেলা শিশুদের মধ্যে, সেই খেলায় বড়দের ওরকম নাক গলানোর মধ্যদিয়ে শিশুরা কী শিক্ষা পেলো? এ প্রশ্নও কি উভয়পক্ষের সমর্থকদের ক্ষতবিক্ষত করছে না? হয়তো করছে হয়তোবা না। পক্ষে যুক্তি থাকবেই। সেই যুক্তি কতোটা খোঁড়া, কতোটা সবল তা নিয়ে বিতর্কের চেয়ে খেলার সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তোলার দিকেই সকলের যত্নবান হওয়া দরকার। তা না হলে খেলাধুলার সরকারি যে উদ্যোগটুকু অবশিষ্ট আছে তাও থাকবে না। খেলাধুলার পরিবেশ রক্ষার্থে অবশ্যই দরকার পরিচালকদের নিরপেক্ষতা। পরিচালনা পরিষদের দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিতকে কোনো সংকীর্ণতায় আবদ্ধ থাকা চলে না। নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না যে, নানা কারণে পক্ষপাতিত্বের কারণেই দর্শক-সমর্থকদের বিশ্বাসে ধরে ঘুণ। যার খেসারত দিতে হয় সমাজকে।
কিছুদিন আগে চুয়াডাঙ্গা ভি.জে স্কুলমাঠ তথা চাঁনমারি মাঠে টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট খেলায় এক পক্ষ হেরে যাচ্ছে দেখে আম্পায়ারের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উত্থাপনের পাশাপাশি নানা অভিযোগ তুলে খেলা বানচাল করে দেয়া হয়। এ ঘটনাটি খেলার পরিবেশ বিঘ্নিতই শুধু করেনি, খেলায় দক্ষতা অর্জনে চর্চার বদলে পেশিশক্তি ও প্রভাব-প্রতিপত্তির বিষয়টিকেই গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। যা খেলার মাঠে কোনোভাবেই কাম্য নয়। একইভাবে ফুটবল খেলার মাঠে ছোটখাটো বিষয়কে বড় করে দেখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করে। পক্ষপাত হলে যথাযথ স্থানে অভিযোগ করে প্রতিকার প্রার্থনা করা যেতে পারে। প্রতিকারদাতাকে অবশ্যই ন্যায় সিদ্ধান্তটিই দিতে হবে। এসবেও যে আস্থাহীনতা তা অবশ্য অস্বীকার করার জো নেই। সে কারণেই তো অনেকে বিবেকহারা হয়ে হট্টগোল বাধিয়ে বসে।
খেলার মাঠে প্রতিযোগিতাপূর্ণ খেলার পরিবেশ গড়ে তুলতে যেমন পরিচালকদের আস্থাশীল হওয়া দরকার, তেমনই দর্শক-সমর্থকদেরও সেই সুযোগ দিতে সৃজনশীল হতে হবে। একটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরেকটি অন্যায় করলে তাকে কি বুদ্ধিমান বলা চলে?
|
|