|
|
গাংনীর মহেশপুর গ্রামে এক গৃহবধূকে পর্নো ভিডিও দেখানোর অপচেষ্টা : ভ্রাম্যমাণ আদালতে ভ্যানচালকের ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ
গাংনী প্রতিনিধি: গৃহবধূকে ফাঁকা মাঠের রাস্তায় একা পেয়ে নিজের মোবাইলফোনে থাকা পর্নো ভিডিও দেখানোর অপচেষ্টা করে এক ভ্যানচালক যুবক। অচেনা যুবকের এ হীন কর্মকাণ্ডে গৃহবধূ ফুঁসে ওঠার পাশাপাশি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে গৃহবধূর চিৎকারে ছুটে আসে আশেপাশের লোকজন। যুবককে ধরে গণধোলাইয়ের পাশাপাশি দেয়া হয় পুলিশে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে। শেষ পরিণাম ওই যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড। আলোচিত এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রোববার দুপুরে মেহেরপুর গাংনী উপজেলার চোখতোলা-মহেশপুর সড়কে। অভিযুক্ত যুবকের নাম জাহাঙ্গীর আলম (২০)। সে গাংনী উপজেলার মাঝের গ্রামের আক্কাস আলীর জামাই।
গাংনী থানার ওসি বিমল কৃষ্ণ মল্লিক জানান, মহেশপুর গ্রামের এক গৃহবধূ গাংনী উপজেলা শহর থেকে গতকাল দুপুর ২টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। বাস থেকে নেমে তিনি পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। এক পর্যায়ে তার পিছু নেয় জাহাঙ্গীর আলম। জাহাঙ্গীরের মোবাইলফোনে থাকা পর্নো ভিডিও ওই গৃহবধূকে দেখাতে বাধ্য করতে থাকে। গৃহবধূর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে জাহাঙ্গীরকে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম ও গাংনী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। গৃহবধূ ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ শোনেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও গাংনী থানার ওসি। নিজের দোষ স্বীকার করে জাহাঙ্গীর আলম। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওসি। গৃহবধূকে যৌন হয়রানির দায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সালামের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালতের আদেশের পরে গাংনী থানার এসআই টিপু সুলতান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে গাংনী থানায় নিয়ে আসেন। আদালতের নির্দেশনামতো জাহাঙ্গীরকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন এসআই টিপু সুলতান। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম কুষ্টিয়ার আমলা চুনিয়াপাড়া গ্রামের হাশেম আলীর ছেলে। দু মাস ধরে সে শ্বশুরবাড়ি মাঝেরপাড়া গ্রামে বসবাস করছে। ভ্যান চালিয়ে সে জীবিকা নির্বাহ করে। তার এক ছেলে সন্তান রয়েছে। কেন এমন কাজ করতে গেলো জাহাঙ্গীরকে এমন প্রশ্ন করা হলে সে জানায়, কেন এ কাজ করেছি তা আমি জানি না। তবে এমন অপরাধে তার মতো সাজা যদি অন্য অপরাধীরাও পেতে তাহলে এমন অনৈতিক কাজ বন্ধ হতো বলে সে দাবি করেছে।
|
|