|
|
পানির নিচে চট্টগ্রাম  স্টাফ রিপোর্টার: প্রবল বর্ষণে তলিয়ে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে একটানা বর্ষণ, সেই সাথে যোগ হয়েছে পাহাড়ি ঢল আর সামুদ্রিক জোয়ার। প্রবল বর্ষণজনিত পাহাড় ধসে একজন নিহত হয়েছে এবং বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে দু জন। কক্সবাজারের মহেশখালীতে পাহাড় ধসে ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৪২ মি.মি.। ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ি, দোকানপাট, হাট-বাজার, বিপণী কেন্দ্র, স্কুল-কলেজ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভারিবর্ষণের কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিকেল ৪টা থেকে বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙর ও জেটিতে পণ্য খালাস বন্ধ। দেশের এ বাণিজ্যিক রাজধানীর সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রফতানি স্থবির হয়ে পড়েছে। বাসা-বাড়ি, দোকানপাট, গুদাম-আড়ত প্লাবিত হওয়ায় কোটি কোটি টাকার মালামাল বিনষ্ট হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিস গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪২.৬ মি.মি. মিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করেছে। এটি চলতি মরসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। সর্বশেষ ২০০৭ সালের ১১ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৪১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় চট্টগ্রামে। গতকালের এই বৃষ্টিপাতে ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিকেল ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিলো ১৪৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার। বিকেল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায় ১৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ভারীবর্ষণে নগরীর প্রায় সব এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
আজ বুধবারও চট্টগ্রামসহ এ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারীবর্ষণের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। মরসুমি বায়ুর প্রভাবে সাগর উত্তাল। সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সঙ্কেত বলবত রয়েছে। অপরদিকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রবল বর্ষণের ফলে মাটির দেয়ালচাপা পড়ে এক গৃহবধূ ও পাহাড় ধসে একটি শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কালারমারছড়ার উত্তর ঝাপুয়ায়। নিহতরা হলেন ঝাপুয়া এলাকার শফি আলমের স্ত্রী ছখিনা আক্তার (৪০), আবদুল মোনাফের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৪), ওয়াসিম মিয়ার ৩ বছরের শিশুপুত্র রাফি মনি ও তালেব আলীর ছেলে আবদুল মজিদ (৩২)। শাপলাপুরের মুখবেঞ্চী এলাকায় আরও এক যুবক নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেলেও কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রবল বর্ষণে ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে সোনাদিয়া ও ধলঘাটা দ্বীপ।
|
|